রাজধানীর মুগদায় ১১ বছর বয়সের স্কুলছাত্রী যমজ দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মাছের দোকানের কর্মচারী আপন মামাতো ভাই ফরহাদ (২৩) পলাতক রয়েছে।
রবিবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করায় মুগদা থানা-পুলিশ।
মুগদা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শেখ এনামুল করিম জানান, আজ দুপুরে শিশু দুটির পরিবার থানায় অভিযোগ দেয়। এরপর অভিযোগটি মামলা আকারে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে তিনি জানান, শিশু দুটির পরিবার মুগদা এলাকায় থাকে। তাদের বাবা মৃত আর মা গৃহিণী। যমজ দুই বোন স্থানীয় একটি স্কুলের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে।
গত বুধবার বিকেলে মামাতো ভাই ফরহাদ কৌশলে তাদের দুজনকে ডেকে একই এলাকায় ফরহাদের বাসায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাদের দুজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও আটকে রেখে মুখে গামছা গুঁজে দিয়ে প্রথমে একজনকে ধর্ষণ করে। পরে আরেকজনেও একই ভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাদেরকে ভয় দেখায়।
পরে দুই বোন বাসায় গিয়ে তাদের মায়ের কাছে সব বলে দেয়। এরপর ফরহাদের পরিবার পারিবারিকভাবে ঘটনাটির সমাধান করতে চায়। এর জন্য দুই দিন তারা কাউকে অভিযোগ করেনি। সর্বশেষ পরশুদিন ফরহাদ ও তার পরিবার পলাতক হওয়ার পর তারা মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে রবিবার দুপুরে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
এসআই আরও জানান, মামলা দায়েরের পর তাদের দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অভিযুক্ত ফরহাদকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদন পেলে ঘটনাটি আরও পরিষ্কার হবে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, তারা পাশাপাশি এলাকায় থাকেন। ঘটনাটি বুধবারই শিশু দুটির কাছ থেকে শুনতে পারেন তারা। তবে মামলা না করতে ফরহাদের বাবা তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে বোঝায় এবং ভয়ভীতি দেখায়। শিশু দুটি বড় হলে একজনকে ফরহাদের বউ হিসেবে তুলে নেবে বলে আশ্বস্ত করতে চায়। তবে তাতেও শিশু দুটির মা রাজি না হওয়ায় শুক্রবার ফরহাদ ও তার পরিবার বাসা থেকে পালিয়েছে। এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ রবিবার থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
