ধর্ষণ মামলায় তরুণীর আহাজারি: গরিব বলে কি বিচার পাব না

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩১ পিএম

শরীয়তপুরে একটি ধর্ষণ মামলার আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় দুই সাক্ষী বয়ান পাল্টেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী কাঁদতে কাঁদতে আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে বলেন, গরিব বলে কি বিচার পাব না।

জানা যায়, গত বছর ২৯ জুন শরীয়তপুরের জাজিরার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারীর (৩২) বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তরুণী মাসুদ ও তার সহযোগী শরীফ সরদারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

রবিবার শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে দুজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বয়ান পাল্টাতে দেখে আদালতের বারান্দায় কান্নায় লুটিয়ে পড়েন ওই তরুণী।

জানা গেছে, ওই তরুণী জাজিরার একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। পড়ালেখার পাশাপাশি উপজেলা সদরের একটি রোগনির্ণয়কেন্দ্রে কাজ করতেন তিনি। গত বছরের ২৯ জুন সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত মাসুদ ও তার সহযোগী।

ঘটনার পর তরুণীকে উদ্ধার করেছিলেন মানছুরা বেগম ও আলেকজান বেগম নামের দুই নারী। তারা সেসময় গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১১ জুলাই তারা শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন। কিন্তু আজ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতকে বলেন, ঘটনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

দুই সাক্ষীর এমন বয়ান শুনে কাঁদতে কাঁদতে আদালতের বারান্দায় লুটিয়ে পড়েন তরুণীটি। মেয়ের কান্না দেখে মা–বাবাও কাঁদতে থাকেন।

কাঁদতে কাঁদতে তরুণীটি বলেন, আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। পড়ালেখা, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা; সবই বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরও বিচার চাইতে আদালতে আসছি। প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। নানা গঞ্জনা সইতে হচ্ছে। আসামিরা প্রভাবশালী। তারা হুমকি দিচ্ছেন। গরিব বলে কি বিচার পাব না? সঠিক বিচার না পেলে এই জীবন রাখব না। গঞ্জনার জীবন রেখে কী হবে!

ওই তরুণীর বাবা বলেন, আমার মেয়েটি এখন ঘর থেকে বের হতে পারে না। তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব জানিয়ে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি। তারা প্রভাব বিস্তার করে সাক্ষীদের প্রভাবিত করছেন। গরিব মানুষ আমরা, কেউ আমাদের পাশে নেই।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মির্জা হযরত আলী বলেন, আদালতের বাইরে আসামিরা হয়তো সাক্ষীদের প্রভাবিত করেছেন। এ কারণে তারা আগের বয়ান বদলে থাকতে পারেন। সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিনে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকের সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত