ঘুম থেকে ডেকে তোলায় সহকর্মীর গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০৪ পিএম

রাজধানীর জুরাইনে সহকর্মীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলায় পেট্রলপাম্পের কর্মচারীর গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ কর্মচারীর নাম রিয়াদ হোসেন (২০)।

শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় মঙ্গলবার তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিয়াদের তিন সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর থানা-পুলিশ।

রিয়াদের বাবা ফরিদ মিয়া জানান, জুরাইন কমিশনার মোড়ের নবারুণ গলির একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকে রিয়াদ। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় সে। চলতি বছরই রিয়াদ সিদ্ধেশ্বরী কলেজে স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হয়। রিয়াদ মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে পার্টটাইম চাকরি হিসেবে চলতি মাসের ৪ তারিখে জুরাইনের এস আহমেদ (সালাউদ্দিন আহমেদ) নামে ওই পাম্পে কাজে যোগ দেয়।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে পাম্পের লোকজন ফোন করে জানায় রিয়াদ দগ্ধ হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে আমরা হাসপাতালে এসে রিয়াদকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। বর্তমানে রিয়াদকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওই পাম্পের কর্মকারীদের বরাত দিয়ে ফরিদ মিয়া বলেন, পাম্পের ইমন নামে এক কর্মচারীকে ঘুম থেকে ডেকে তোলায় সে রিয়াদের গায়ে অকটেন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

শ্যামপুর থানার ওসি মফিজুল ইসলাম জানান, এস আহমেদ পেট্রল পাম্পে ৪ জন অপারেটর রাতের ডিউটিতে ছিল। এদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান ইমন (২২) নামে এক অপারেটর ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রিয়াদ তাকে ডাকতে যায়। সে না উঠলে বোতলের মুখে করে সামান্য একটু অকটেন ইমনের গায়ে ছিটিয়ে দেয় রিয়াদ। এতে ইমন ঘুম থেকে ওঠে আড়াই শ মিলিগ্রামের একটি বোতলে করে অকটেন নেয়। সেটা রিয়াদের গায়ে ঢেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ইমন। মুহূর্তেই রিয়াদ আগুনে পুড়ে যায়। পরে পাম্পের কর্মচারীরাই রিয়াদকে উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায়।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রিয়াদের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় মাহমুদুল হাসান ইমন (২২) এবং অপর দুই অপারেটর মো. ফাহাদ আহমেদ পাভেল (২৮) এবং শহিদুল ইসলাম রনিকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, রিয়াদের শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত