নালার ওপর চসিকের মার্কেট ৬ বছরেও উচ্ছেদ হয়নি!

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৭ এএম

ছয় বছর পরও নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ের পাশে নালার ওপর গড়ে তোলা মার্কেটটি সরিয়ে নেয়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্তৃপক্ষ। এতে আশপাশে থাকা চারটি মার্কেটের অন্তত ৫০০ দোকানমালিক ও ক্রেতারা চলাচলে বেকায়দায় পড়ার পাশাপাশি আতঙ্কে দিন পার করছেন। এ ছাড়া বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ তো আছেই। সরকারি আইন ও বিধিমালা এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে কার স্বার্থে মার্কেটটি উচ্ছেদ করা হচ্ছে না, তার সদুত্তর নেই চসিকের সংশ্লিষ্টদের।

এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী মো. মোজাম্মেল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নালার ওপর তো মার্কেট নির্মাণ করার কথা নয়। তবুও বহদ্দারহাট মোড়ে চসিকের নির্মিত মার্কেটে কোনো অনিয়ম থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ বিষয়ে বিস্তারিত আরও জানতে হবে।’

চসিক কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী জানান, এম মনজুর আলম মেয়র থাকাকালে নগরীর রাস্তা, ফুটপাত ও নালার ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ২০১৩ সালের ১০ জুন চসিকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। এ সময় শুলকবহর থেকে বহদ্দারহাটের ডোমখালি খাল পর্যন্ত বক্স ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চসিক। এই নালা নির্মাণে

রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অনেক দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বহদ্দারহাট বাজারঘেঁষে গড়ে তোলা চসিকের টিনশেডের পুরনো কিছু দোকানপাটও। কিন্তু সেই সময় ‘অদৃশ্য কারণে’ বহদ্দারহাট মোড়ের পাশে চসিকের সংশ্লিষ্টরা বক্স ড্রেন করে নালার ওপর এই মার্কেটটি নির্মাণ করে।

স্বপন বৈষ্ণব নামে বহদ্দারহাটের এক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যখন নালার ওপর অবৈধভাবে এই মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু করেছিল, তখনই উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। পরে মহামান্য আদালত নালার ওপর মার্কেট নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সড়ক ও নালার ওপর অবৈধভাবে মার্কেট গড়ে তোলে চসিক। এমনকি মার্কেটটি নির্মাণে সিডিএ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এখন আমরা স্থানীয়রা ছাড়াও স্বজন সুপার মার্কেট, বখতেয়ার মার্কেট, খাজা মার্কেট, আবু তাহের মার্কেটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলে চরম ব্যাঘাত হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ, অবৈধ এই মার্কেটটি উচ্ছেদ করে চলাচলের সুব্যবস্থা করে দিন।’

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের প্রবেশমুখ থেকে স্বজন সুপার মার্কেটের সামনের বক্স কালভার্ট ও সড়কের ওপর আধা পাকা টিনশেড এবং ভাসমান দোকানসহ প্রায় শখানেক দোকান রয়েছে। ওই দোকানগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শপিং কমপেক্স’। এসব দোকানের সামনে ওয়াসার পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। রাস্তার এক পাশের কাটা গর্তে পানিও জমে আছে।

স্বজন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সরওয়ার আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নালার ওপর অবৈধভাবে এই মার্কেটটি নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম দিকে একমুখী ৩৬টি দোকান ছিল। এখন তা দুইমুখী করে ৭২টি করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া নেয় চসিক। এই মার্কেট নির্মাণের কারণে বৃষ্টি হলেই স্বজন সুপারসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।’ একই সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মার্কেটটি নির্মাণ করায় চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি ওঠে। কোনো কারণে আমাদের মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও প্রবেশ করতে পারবে না। শুধু আমরা নই, পাশর্^বর্তী চারটি মার্কেটের প্রায় ৫০০ দোকানমালিক জীবনঝুঁকি নিয়ে এখানে আছি। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই মার্কেটটি উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।’

এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নালার ওপর কীভাবে মার্কেট নির্মাণ করা হয়। আসলে বিষয়টি সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে চসিকের প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত