হবিগঞ্জে রোববার পুরো জেলা জুড়ে আলোচনায় ছিল ‘লোভের ফাঁদে ধরা’ দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনামের সংবাদটি।
প্রস্তাবিত হবিগঞ্জের বাল্লাস্থল বন্দরের প্রস্তাবিত ভূমি সরকারি দলের সাংসদ আবু জাহিরসহ তাদের স্বজনরা সরকারের নিকট থেকে অধিগ্রহণের মূল্য তিন গুন পাওয়ার ফন্দির বিষয়টি সংবাদে তুলে ধরা হয়।
রোববার সকালে হবিগঞ্জ শহরে দেশ রূপান্তরের প্যাকেট আসার ২/৩ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৭শ কপি বিক্রি হয়ে যায়। বাজারে কপি না পেয়ে অনেকেই পত্রিকার ওয়েব সাইড ও ফটোকপির সাহায্য নেন।
স্থলবন্দর এলাকায় বেশি দামে ভূমি কিনে দলিলে কম মূল্য দেখিয়ে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করায় হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহিরসহ সরকারি দল ও বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মুনাফালোভী চক্রের সদস্যদের স¤পর্কে আলোচনার ঝড় উঠে।
দিনভর এ নিয়ে আদালত পাড়া থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বিভিন্ন অফিস ও চায়ের দোকানে ছিল সরগরম। ফেসবুকও ছিল সরব। নানাজনের মন্তব্য ভরে যায় সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পত্রিকার ওয়েব সাইড থেকে ফেইসবুকে করা ৯০২টি শেয়ার।
ফেসবুকে হবিগঞ্জ হকার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সবুজ লেখেন ৫শ কপি দেশ রূপান্তর বেলা ১১টার মধ্যে শেষ। এই ভূমিখেকোদের রাজস্ব ফাকিতে এখন তাদের আম যাবে, ছলাও যাবে। আমরা হকাররা এমন লীড নিউজ-ই চাই।
দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি কি এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, সরকারি কাজে বাঁধা, সরকারের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করতে পারি। একজন আইনজীবীর কাছে জানতে চাই। এমনটিই লিখেছেন মো. শাহরিয়ার নোমান।
সাবেক ছাত্রনেতা এনামুল হক নামে একজন লিখেছেন ডিসি অফিসের একজন এ জন্য অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাপাত্তা। এখন সে আলীসান জীবন যাপন করে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি সাহেবের নিকট আবেদন জানাচ্ছি।
‘লোভের পরিণাম ভয়াবহ’ লিখেছেন দাশ সুমন।
জুনায়েদ আহমেদ মন্তব্য করেছেন ‘দেশ রূপান্তর পত্রিকা কি সাংবাদিক না গোয়েন্দা? এতো তথ্য তারা পাইলো কই? এতো দেখছি দাগ নং খতিয়ান নং সহ উল্লেখ করা! এসব তথ্য তো আমার মনে হয় দুদক ও তদন্তকারী গোয়েন্দাদের কাছেও নেই। পুরো হবিগঞ্জের সকল গুণধর(?) এক পুকুরে সাঁতার কাটার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। তবে ভালাই হয়েছে, দেশ রূপান্তর এই সুযোগে চেব লাগাইয়া ধরতে পারছে।’
নাসির উদ্দিন লিখেছেন, এরা বড় সেয়ানা। টাকা নিচ্ছে না। উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান ডিসি স্যারকে দিয়ে হবে না বুঝে গেছে। তাই পরের জেলা প্রশাসকের জন্য অপেক্ষা। তাদের ধারণা ইনশা আল্লাহ পরবতীতে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাদের আশা ১শ ভাগ সফল হবে। এখন আমাদের দেখার বিষয় পানি কোন দিকে গড়ায়।
স্থানীয় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ এর সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্ত এই প্রতিনিধিকে জানান, পাঠকের চাহিদা মেটাতে তারা সোমবারের পত্রিকায় দেশ রূপান্তরের ওই সংবাদটি মুদ্রণ করবেন।
