‘বাংলাদেশে করোনার যে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে তা ইউরোপের মতো খুব একটা ক্ষতি করতে পারবে না’-এমনটা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে এ কথা বলেন তিনি।
ক্ষতি করতে না পারার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। তাই ইউরোপের মতো সেকেন্ড ওয়েব তেমন একটা ক্ষতি করতে পারবে না। তবে মাস্ক পরিধানের ক্ষেত্রে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। এ ছাড়া জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।’
বিজন কুমার শীল ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত জটিলতায় বাধ্য হয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। সিঙ্গাপুরে পৌঁছে সেখানে একটি হোটেলে তাকে ১৫ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানে পরিবারের সঙ্গে ভাল সময় কাটাচ্ছেন বিজন শীল। তবে উদগ্রীব হয়ে আছেন দেশে ফেরার জন্য।
এ বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাগজপত্র পাঠানোর কথা। কাগজপত্র পাঠালে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ এ্যাম্বেসীতে জমা দেব। সে কাগজ পাইনি।’
সিঙ্গাপুর থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ড. বিজন। তিনি সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে শিক্ষকতা করছিলেন। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি তা শনাক্তে অ্যান্টিজেন্ট ও অ্যান্টিবডি কিটের উদ্ভাবন করেন। তবে তা মানোত্তীর্ণ হয়নি এমন অজুহাতে অনুমোদন দেয়নি সরকার। এরই মধ্যে গত জুলাই মাসে তার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হলে তাতেও সাড়া দেয়নি সরকার। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
