নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৪৪ এএম

প্রথম অধ্যায়, সৃজনশীল-৪

(২-১২-২০২০ তারিখের পর)

৪. অহনা ও বিউটি দুই বান্ধবী। ক্লাস শেষে তারা এক দিন ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করছিল। অহনা বলল, মানবসমাজের শুরু থেকে যাবতীয় কর্মকাণ্ড, জীবনযাত্রার অগ্রগতি ইতিহাস থেকে জানা যায়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বহু ধারণা পোষণ করেন। মানবসমাজের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করাই হলো ইতিহাস। বিউটি বলল, দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

ক.         স্তম্ভলিপি ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান?

খ.         ইতিহাসের বিষয়বস্তু বলতে কী বোঝায়?

গ.         অহনার আলোচনা থেকে ঐতিহাসিকদের ধারণা থেকে কীভাবে ইতিহাস সম্পর্কে জানবে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.         দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করো।

            উত্তর

ক.         স্তম্ভলিপি ইতিহাসের অলিখিত বা প্রতœতাত্ত্বিক উপাদান।

খ.         মানবসমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রমাণ ও লিখিত দলিলই হলো ইতিহাস। ইতিহাসের বিষয়বস্তুর পরিসর ব্যাপক। ঐতিহাসিক ভিকো মনে করেন, মানবসমাজ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপত্তি এবং বিকাশই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যেগুলো মানবসমাজ, সভ্যতায় উন্নতি ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেমন শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, স্থাপত্য, রাজনীতি, যুদ্ধ, ধর্ম, আইন প্রভৃতি বিষয় সামগ্রিকভাবে যা কিছু সমাজ-সভ্যতা বিকাশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে, তা-ই ইতিহাসের বিষয়বস্তু।

গ.         উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে মানবসমাজের অতীত কর্মকাণ্ড। মানবসমাজের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করাই হলো ইতিহাস। ইতিহাস শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে ‘ইতিহাস’ থেকে। ই. এইচ. করের ভাষায়, ইতিহাস হলো বর্তমান ও অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস তার লেখায় সর্বপ্রথম ঐরংঃড়ৎরধ শব্দের ব্যবহার করেন। পরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা ও মতবাদ দেন। উদ্দীপকের অহনার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিতব ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারি হেরোডোটাস বিশ্বাস করতেন, ‘ইতিহাস হলো যা কিছু সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল, সেসব অনুসন্ধান ও লেখা।’ এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ড. জনসন বলেন, ‘যা কিছু ঘটে তাই হলো ইতিহাস।’ টয়েনবির মতে, ‘মানুষের সমাজ জীবনই ইতিহাস।’ আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন র‌্যাংকে মনে করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও সত্য বিবরণ প্রদান করাই ইতিহাস।’ ইতিহাসবিদ র‌্যাপসন বলেন, ‘ইতিহাস হলো যেকোনো বস্তুনিষ্ঠ ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বর্ণনা।’

ঘ.         দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উদ্দীপকে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিউটির বক্তব্য, ‘দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাসপাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।’ বক্তব্যটি মূল্যায়ন করা হলো। মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণই হচ্ছে ইতিহাস। এ কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অসীম। ইতিহাসপাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে ও ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের নিজ এবং নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং ব্যক্তির প্রয়োজনে ইতিহাসপাঠ অত্যন্ত জরুরি। তা ছাড়াও ইতিহাসের মাধ্যমে অতীতের সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা আমাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। এসব বিবরণ যদি হয় নিজ দেশের সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। ইতিহাস-জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। ইতিহাসের ব্যবহারিকও গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয়তাবোধ ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে ইতিহাসপাঠের বিকল্প নেই। কারণ ইতিহাস হলো একমাত্র বিষয়, যার মাধ্যমে একটি জাতির অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায়। ইতিহাস আমাদের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে ইতিহাসকে বলা হয় শিক্ষার্থীর দর্পণ। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থেই ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন। সঠিক ইতিহাসের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারাকে গতিশীল রাখা যায়। পরিশেষে বলা যায়, দেশ ও জাতি সম্পর্কে জানতে এবং তাদের অগ্রগতির জন্য অবশ্যই ইতিহাস পাঠ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত