কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কোটি টাকার একটি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সড়কের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার শিডিউল বহির্ভূতভাবে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ বাস্তবায়ন করছে।
অপরদিকে সড়ক উন্নয়নের কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা পেকুয়া উপজেলা এলজিইডি’র রহস্যজনক নীরবতায় ঠিকাদার অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ এর আওতায় পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ‘পিএবিটি-হরিণাফাঁড়ি সড়ক এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন’ কাজের জন্য বরাদ্দ কোটি টাকার উপরে।
এ সড়ক উন্নয়নের কাজ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করেছিলেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম বিএ (অনার্স) এমএ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নে সড়কটির উন্নয়নে কার্যাদেশ পেয়েছিলেন পেকুয়া সদরের সিকদার পাড়া গ্রামের শামশুল আলমের ছেলে মো. তারেকের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তারেক এন্ড ব্রাদার্স।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কাজ উদ্বোধনের সময় থেকে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম থাকলেও কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার এক বছর ৯ মাসেও কাজ শেষ করতে পারেনি।
পিএবিটি আঞ্চলিক মহাসড়কের শূন্য মিটার থেকে ২০০০মিটার পর্যন্ত হরিণাফাঁড়ি সড়ক এইচবিবি দ্বারা উন্নয়নের শুরুতেই ঠিকাদার তারেক নানান অনিয়মের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখলেও কাজ তদারকির দায়িত্বে পেকুয়া এলজিইডি ‘রহস্যজনক’ নীরব রয়েছে।
প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ায় এলজিইডির পেকুয়ার কর্মকর্তারা সড়ক উন্নয়নকাজে অনিয়ম বন্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এদিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের হরিণাফাঁড়ি সড়ক উন্নয়নকাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী ও কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে ১৮ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, হরিণাফাঁড়ি সড়ক এইচবিবি দ্বারা উন্নয়নকাজে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজের শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত অনিয়মের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করছেন। সড়ক নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহার করেছেন।
সড়কের কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের ইট ডেবে গেছে।
শিডিউল অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করেনি। সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণেও ঠিকাদার ব্যাপক অনিয়ম করেছে। পানি মধ্য ইটের গাঁথুনি দিয়ে গাইডওয়ালের কাজ করেছে। সড়ক উন্নয়নকাজে ঠিকাদারের অনিয়ম বন্ধে পেকুয়া এলজিইডির প্রকৌশলীকে স্থানীয় এলাকাবাসীদের পক্ষে অবহিত করা হলেও ঠিকদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হরিণাফাঁড়ি সড়ক উন্নয়নকাজে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট দ্বারা এইচবিবি করেছেন, ইট বসানোর পূর্বে রোলার দ্বারা কমপ্রেসার করা হয়নি। সড়কে পুরোনো ইটও ব্যবহার করা হয়েছে।
পানির মধ্যে গাইড ওয়ালের কাজ করা হয়েছে। নিম্নমানের কাজ করায় গাইড ওয়াল ও সড়কের ইট ডেবে যাচ্ছে।
হরিণাফাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও পেকুয়া সদর ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মামুনুর রশীদ নুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার তারেক দায়সারাভাবে কাজ করছেন। অনিয়মের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ আওয়ামী লীগ নেতা।
হরিণাফাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদার তারেক আমার প্রতিবেশী হওয়ায় তার কাছে গিয়ে শতবার হাতজোড় করে বলছি এই রাস্তা নিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর পর্যন্ত কষ্ট পেয়েছি বিধায় আপনার সাধ্যমতো যতটুকু সম্ভব একটু গুণগত ইট দিয়ে রাস্তাটি করেন। কিন্তু ঠিকাদার কথা শোনেনি।
তিনি সড়ক উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি করায় কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার এলজিআইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলজিইউডির প্রধান প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সড়ক উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রসঙ্গে জানতে কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার মেসার্স তারেক অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিকা মো. তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরীর বক্তব্যর জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি কাজ একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ঠিকাদারকে শিডিউল মতে কাজ করতে বলেছেন। নিম্নমানের ইট ও বালি দিয়ে সড়ক উন্নয়নের কাজ করা করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেছেন।
