নভেম্বর মাসে সারাদেশে ৪১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। আহত হয়েছে ৬৮২ জন। নিহতের মধ্যে ৫৩ শিশু ও ৬৪ জন নারী।
অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দুই বেড়েছে। অক্টোবর মাসে ৩১৪ টি দুর্ঘটনায় ৩৮৩ জন নিহত হয়েছিল। গত মাসের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।
শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
নভেম্বরে ৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩ জন ও ২৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েও বলেও জানানো হয়।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে নভেম্বরে। ১২৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪১ জন।
এসময় পথচারী নিহত হয়েছেন ১১৬ জন। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছে ৪৯ জন।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১১ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১২৮ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। ২২ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জন। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৬টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত। সবচেয়ে কম ভোলা জেলায়। ৩ টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত।
ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, জাতীয় মহাসড়কে সবসময় দুর্ঘটনার হার বেশি থাকলেও নভেম্বর মাসে জাতীয় মহাসড়কের তুলনায় আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেল চালক ও পথচারী নিহতের ঘটনা চরমভাবে বেড়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ১০টি কারণ উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে- ত্রুটিপূর্ণ যান, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল অন্যতম।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ফাউন্ডেশন ১০টি সুপারিশ করেছে। তার মধ্যে- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করার সুপারিশ রয়েছে।
