যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা বাড়ছে ক্রমশ। নৌকার প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদিন হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একে অপরের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে বহরমপুর বাজারে পাল্টাপাল্টি নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বহরমপুরে আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ৮ টার দিকে ওই এলাকার ছোট বহরমপুরে নৌকা প্রতীকের কার্যালয় ভাংচুর হয়। এ ঘটনায় পরস্পর পরস্পরকে দায়ী করেছে।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভিন সাথির দেবর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম টুটুল বলেন, ছোট বহরমপুর নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করেছে আনারস প্রতীকের সমর্থকেরা। এ সময় তাপস নামে তাদের এক কর্মীর বাড়ির বিচালিতে আগুন দিয়ে ভীতি সৃষ্টি করা হয় বলে দাবি করেন টুটুল। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে আনারস প্রতীকের প্রার্থী দিলু পটোয়ারী অভিযোগ করেন নৌকা প্রতীকের কর্মীরা আনারস প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে। আনারস প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত জেনে নৌকা প্রতীকের লোকজন উদ্দেশ্যমূলকভাবে একের পর এক হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান দিলু পাটোয়ারি।
এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান বলেন, আওয়ামী ঘরানার দুই প্রার্থীর ভেতর দ্বন্দ্ব সংঘাতের পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের মাঝে ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য এ ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এসব ঘটনা ঘটলেও মামলা দেওয়া হচ্ছে ধানের শীষের সমর্থকদের নামে। এসব মামলার সূত্র ধরে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে।
বাঘারপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন শনিবার সন্ধ্যায় জানান, নৌকা প্রতীকের পক্ষে মামলা করতে তাদের প্রতিনিধি থানায় অবস্থান করছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আনারস প্রতীকের কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি বলে তিনি জানান। মামলার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
