লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আবু ইউনুস মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও চারজনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ নিয়ে তিন মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২০ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
রবিবার দুপুরে আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগমের আদালত চারজন আসামির দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে শনিবার বিকেলে আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফেরদৌসী বেগমের আদালতে তাদের সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন–বুড়িমারী কামারপাড়া এলাকার মোতাহার হোসেন (২১), একই এলাকার আমির হোসেন (৩০), বুড়িমারী লাইনের পাড় এলাকার আতিয়ার রহমান পাইয়া (৩৫) ও একই এলাকার বিপ্লব হোসেন ওরফে লিমন (১৯)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, আলোচিত জুয়েল হত্যায় করা হত্যামামলা, পুলিশের ওপর হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে হামলার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের শুক্র ও শনিবার আটক করা হয়।
জুয়েল হত্যার ঘটনায় করা তিন মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যার মধ্যে মূলহোতা বুড়িমারী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটর এবং মসজিদের খাদেম জোবেদ আলীসহ ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে ধর্ম অবমাননার দায়ে জুয়েল ও তার সঙ্গী একই এলাকার সুলতান রুবায়াত সুমনকে পিটুনি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আটকিয়ে রাখেন স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় ইউপি ভবন ভেঙে প্রশাসনের উপস্থিতিতে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জুয়েলের সঙ্গী রুবায়াত সুমনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
