রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় এক ভ্যানচালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সবুজ মিয়া।
ধর্ষণের পর ওই কিশোরীর শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যায় বলে জানায় আদালত।
ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার সোমবার এ রায় দেন।
আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ জানান, আসামি সবুজ ওই শিশুটির বাবার বন্ধু ও প্রতিবেশী। শিশুটির বাবাও সবুজের সঙ্গে ভ্যান চালাতেন এবং ফেরি করে জিনিসপত্র বিক্রি করতেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ আগস্ট ওই কিশোরী যখন ধর্ষণের শিকার হয়, তার বাবা-মা তখন কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। তার বাবার সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে সে সময় ওই বাসায় যান সবুজ মিয়া। ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে মেয়েটিকে তিনি ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের কথা কাউকে বললে মেয়েটিকে মেরে ফেলারও হুমকি দেন সবুজ। এরপর মেয়েটি প্রতিবেশী এক নারীকে সব খুলে বলে। ওই নারী তখন অন্য প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সবুজকে আটক করেন। পরে পিটুনি দিলে সবুজ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।
এরপর মেয়েটির মা-বাবা বাড়ি ফিরলে সবুজকে পুলিশে দেওয়া হয়। পরদিন মেয়েটির মা বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনা তদন্ত করে ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ আদালতে সবুজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন বনানী থানার এসআই আশরাফুল আলম।
এতে বলা হয়, মেয়েটির পোশাকে পাওয়া আলামত সবুজের ডিএনএর সঙ্গে মিলে গেছে। মামলার বিচারকালে বাদীপক্ষে মোট সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
সোমবার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, মেয়েটির জীবন তছনছ হয়ে গেছে ওই ঘটনায়। সে আগে স্কুলে পড়ত । ঘটনার পর তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার তাকে পাশের এক জেলায় বিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
