প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরেও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার শহররক্ষা বাঁধ। ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে চালনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরসভার ভোট এলেই প্রার্থীরা বাঁধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। তবে নির্বাচিত হলে সে প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ঝড়-বৃষ্টি এলে আতঙ্কে থাকেন পৌরসভার বাসিন্দারা।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর চালনা পৌরসভার নির্বাচন। এবার মেয়র পদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নৌকা প্রতীকে সনৎ কুমার বিশ্বাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র অধ্যক্ষ অচিন্ত কুমার মন্ডল, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে চালনা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক আবুল খয়ের খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গৌতম কুমার রায়।
পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, ৯ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটারের পৌরসভাটি ২০১৩ সালের আগস্টে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পৌরশহরের পূর্ব পাশে পশুর নদী ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে চুনকুড়ি নদী বয়ে গেছে।
পৌরবাসী জানান, দাকোপ সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি উপকূলীয় উপজেলা। উপজেলাটি একটি দ্বীপের মতো। চারপাশে নদী দিয়ে ঘেরা। ফলে সারা বছর এখানে নদীভাঙন চলতে থাকে। পৌরসভার পাশ দিয়ে পশুর ও ঢাকি নামে দুটি বড় নদী বয়ে গেছে। একটু প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বা নদীতে পানি বৃদ্ধি হলেই পৌরসভায় পানি প্রবেশ করে। সড়ক, ঘরবাড়ি ও দোকাপাটে পানি উঠে যায়। তখন খুব সমস্যায় ভুগতে হয় পৌরবাসীকে। তাই পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের। গত নির্বাচনে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান পৌর মেয়র সনৎ কুমার বিশ্বাস। কিন্তু আজ অবধি শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ হয়নি। বাঁধ না হলে শহরটিকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। এই নির্বাচনে পৌরবাসীর এটা অন্যতম চাওয়া।
চালনা পৌরসভার বাসিন্দা কল্যাণ রায় (৫০) বলেন, নির্বাচন এলেই হাজারো প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হন প্রার্থীরা। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রতিশ্রুতি। নির্বাচিত হওয়ার পর তারা সেটা বেমালুম ভুলে যান।
চালনা বাজারের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় পৌর এলাকা ডুবে গিয়েছিল। আইলার ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। তাছাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই চালনা বাজার তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয় বর্ষাকালে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী গৌতম কুমার রায় বলেন, নির্বাচিত হলে আগে বাঁধ নির্মাণ করব। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ অচিন্ত কুমার মন্ডল বলেন, ২০১৫ সালে মেয়র থাকাকালীন বাঁধ নির্মাণের জন্য ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প জলবায়ু ফান্ডে দিয়েছিলাম। পরে প্রথম দফায় ৫ কোটিও বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজ আর হয়নি। এবার নির্বাচিত হলে সবার আগে বাঁধের কাজটি করব।
বর্তমান মেয়র সনৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শহররক্ষা বাঁধের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। একটু সমস্যার কারণে প্রকল্পটির কাজ দেরি হচ্ছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান করে কাজ শুরু করা হবে।
