পাবনায় সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল শেখ হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দাফন করে ফেরার পথে তারা ৯ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ৩০ দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে এদিন সকালে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পরে তারা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে পথসভা করেন। এ সময় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন বিক্ষুব্ধরা। নইলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পাবনা শহরের অনন্ত মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা বকুল শেখকে (৩২) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তিনি সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর এলাকার দুলাল শেখের ছেলে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে বকুলের লাশ দাফন করে ফেরার পথে তার স্বজন ও এলাকাবাসী বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ সময় তারা বেশ কিছু দোকানে ভাঙচুর চালায়। তাৎক্ষণিক পাবনা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধরা আমাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে তিন পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন। পরে ব্যারেল গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে মাসুদ আলম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে তদন্তে সহযোগিতার জন্য নিহত বকুলের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে পাবনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দুলাল মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯টি বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে তিনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।
সকালের পথসভায় নিহত বকুলের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলতাফ হোসেন ও শহিদুর রহমান বলেন, ‘চাঁদা তোলা বন্ধ করে দেওয়ায় জামায়াত নেতা মোখলেস প্রামানিক, রানা, ডালিমসহ একদল সন্ত্রাসী শুক্রবার সন্ধ্যায় কৌশলে বকুলকে অনন্ত মোড় এলাকায় ডেকে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তাদের সামনেই তারা বকুলকে হত্যা করে চলে যায়। পুলিশ তাদের আটক না করে উল্টো আমাদের ওপরই চড়াও হয়।’
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু বলেন, ‘এলাকাবাসীর স্বার্থে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বকুলকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হাসান বলেন, বকুল শেখ আমাদের ইউনিয়নের জনপ্রিয় সদস্য। তাকে জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা যেভাবে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হলে আমরা তীব্র আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আরও বলেন, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে এ ধরনের অভিযোগ। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।
