কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং (খনন) কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম টিউবের বোরিং কাজ শেষ হওয়ার ৫ মাসের মাথায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয়টির কাজ। কাজে বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ প্রমুখ অংশ নেন।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ টানেল নির্মাণ শেষ হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। আর চট্টগ্রাম শহর পরিণত হবে ওয়ান সিটি টু টাউন মডেলে। চট্টগ্রামে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আরেকটি মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনের উন্নীতকরণ প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত রয়েছে। গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম এবং এর আশপাশের এলাকা নিয়ে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন মাস্টারপ্ল্যান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মাল্টি লেন রোড টানেল আন্ডার রিভার কর্ণফুলী প্রজেক্ট’ শিরোনামে এই বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। করোনার মধ্যেই আমরা প্রকল্পের দুটি টিউবের মধ্যে একটির খনন ও রিং বসানোর কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আনোয়ারা প্রান্ত থেকে দ্বিতীয় টিউবের খননকাজ চলছে। পতেঙ্গা প্রান্ত গিয়ে টিউবটি শেষ হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আধুনিক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলীর তলদেশ হয়ে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। নদীর নিচে মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩১৫ কিলোমিটার। এর বাইরে পতেঙ্গা প্রান্তে ৫৫০ মিটার এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড রয়েছে। আনোয়ারা প্রান্তে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার কনভেয়র বেল্টের কারণে সেখানে ৭২৭ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। টানেলের মূল অংশে কর্ণফুলীর তলদেশে থাকছে ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি টিউব। চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ করছে।
