শরীয়তপুরে স্কুলছাত্রীর পালিয়ে বিয়ে, ধরে এনে শিকলে বাঁধল বাবা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৫০ পিএম

পরিবারের অমতে পালিয়ে প্রতিবেশী যুবককে বিয়ে করার পর ধরে এনে নিজের স্কুলছাত্রী মেয়েকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন এক বাবা। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার চরকুমারিয়া ইউনিয়নে। জানা যায়, এক মোটরসাইকেল চালক প্রতিবেশীর সঙ্গে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। ছেলের পরিবার মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে চাইলেও মেয়ের পরিবার এতে নারাজ। তাই মেয়ের বাবা তাকে ঘরের একটি কক্ষে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।

গত মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে শেখ নজরুল ইসলাম নামের একটি ফেইসবুক আইডিতে ভিডিওটি দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চরকুমারিয়া ইউনিয়নের এক গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে। প্রতিবেশী ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক আহাম্মদ আলী মালতের (২১) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ বছরের ২৯ অক্টোবর তারা পালিয়ে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর তারা আহাম্মদ আলীর খালার বাড়ি পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। দুই দিন পর পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে।

আহাম্মদ আলী মালতের পরিবার ছেলের বউ হিসেবে ওই স্কুলছাত্রীকে ঘরে তুলতে চাইলেও মেয়েটির পরিবার এতে রাজি হয়নি। মেয়ের বাবা গত ৩ নভেম্বর সখীপুর থানায় আহাম্মদ আলী মালতের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন পুলিশ আহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে শরীয়তপুর আদালতে পাঠায়।

আদালতে আহাম্মদ আলী ও ওই স্কুলছাত্রীকে হাজির করলে বিচারক আহাম্মদ আলীকে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্বামীকে কারাগারে পাঠানোর কথা শুনে মেয়েটি অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে এবং মানুষ জড়ো করে ফেলে। পরে বিচারক তাকে সেফ কাস্টডিতে (নিরাপত্তা হেফাজত) পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৪ নভেম্বর ওই স্কুলছাত্রী আদালতের মাধ্যমে সেফ কাস্টডি থেকে বাবা-মার কাছে জামিনে আসে। সে এখন অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তার বাবা মাঝে মধ্যে ঘরের একটি কক্ষে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।

এ বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবার ভাষ্য, আমি আমার মেয়েকে সব সময় শিকল দিয়ে বাঁধি না। মেয়েকে দিনরাত দেখে রাখি। তা না হলে আহাম্মদ আলী মালতের বাড়িতে চলে যায়। শুধু পাগলামি করে। তাই একদিন দুষ্টুমি করে হাতে শিকল দিয়ে বাঁধি। কারা যেন সেই ঘটনা ভিডিও করে ফেইসবুকে ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আহাম্মদ আলী মাদক বিক্রি করে, মাদক খায়। তাই ওর কাছে মেয়ে দিতে চাচ্ছি না।

অন্যদিকে আহাম্মদ আলী মালতের মা সুরত নেছা বলেন, দুজনে সম্পর্ক করে পালিয়ে বিয়ে করেছে। এ ব্যাপারে আমরা জানতাম না। উদ্ধার হওয়ার পরে জেনেছি। ছেলে যেহেতু ভুল করে ফেলেছে, তাই মেয়েটিকে বউ হিসেবে ঘরে তুলতে চাই। কিন্তু মেয়ের পরিবার রাজি নয়। তাদের কারণে আমার ছেলে জেল খাটছে।

চরকুমাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আকতার সরদার বলেন, তারা বিয়ে করে পালিয়ে গেলে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের উদ্ধার করি। মেয়ে-ছেলে একসঙ্গে সংসার করতে চাইলেও মেয়ের পরিবার রাজি নয়। আর মেয়ের বয়স অল্প হওয়ায় আমরাও কিছু করতে পারছি না।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হালিম জানান, মেয়ের বাবা বাদী হয়ে আহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল নাসীফ ফোনে জানান, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত