সাবেক এমপি বদিকে ‘বাবা’ দাবি করে যুবকের মামলা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩১ পিএম

কক্সবাজারের সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে নিজের বাবা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মোহাম্মদ ইসহাক (২৬) নামের এক যুবক। দেশের আলোচিত এই সাবেক সাংসদকে নিজের বাবা জেনেও থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না দেখে গত ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ সহকারী জজ আদালতে সাবেক সাংসদ বদিকে নিজের বাবা দাবি করে আবেদন করেন। এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে টেকনাফসহ পুরো জেলায় আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়া গ্রামের ২৬ বছরের যুবক মোহাম্মদ ইসহাক। জন্মের পর থেকেই পিতৃত্ব থেকে বঞ্চিত। চোখের সামনে বাবার পরিচয় জেনেও চোখের পানি ফেলেছেন। সহ্য করেছেন নীরবে। কিন্তু, প্রকাশ্যে বাবা ডাকার সুযোগ হয়নি। অবশেষে আদালতে মা সুফিয়া খাতুনকে বিবাদী করে সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদিকে পিতৃত্বের অধিকার দেওয়ার জন্য আবেদন করেন।

পরিচয় নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করারও আবেদন করেছেন আদালতে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

বাদি মোহাম্মদ ইসহাক আবেদনে উল্লেখ করেছেন, গত ১৯৯২ সালের ৫ এপ্রিল কলেমা পড়ে তার মা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তার মায়ের বিয়ে পড়ান আবদুর রহমান বদির পারিবারিক আবাসিক হোটেল নিরিবিলিতে ওই সময়ে কর্মরত মৌলভি আবদু সালাম। বিয়ের সাক্ষী ছিলেন হোটেলের দারোয়ান এখলাছ মিয়া। এসব ঘটনা বুদ্ধি হওয়ার পর তার গর্ভধারিণী মায়ের কাছেই শোনেন, তার বাবা আবদুর রহমান বদি। পরে বিভিন্ন সময়ে মায়ের হাত ধরে অসংখ্যবার বাবা বদির কাছে যান। আবদুর রহমান বদি অপ্রকাশ্যে তাকে নিজের সন্তানের মত বুকে জড়িয়ে আদর করেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এভাবে অসংখ্যবার আবদুর রহমান বদির কাছে গিয়ে সান্নিধ্য পেয়েছেন। কিন্তু, প্রকাশ্যে সন্তান হিসাবে মোহাম্মদ ইসহাককে মেনে নেয়নি। কারণ, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সামাজিক অবস্থানসহ নানা সমীকরণ দেখিয়ে মায়ের কাছে বারবার সময় নেন। মা স্বামীর (আবদুর রহমান বদি) কথার অবাধ্য হননি। তাই তার মা সুফিয়া খাতুন এত দিন চুপ ছিলেন।

মোহাম্মদ ইসহাক আরও জানান, তার বয়স বাড়ার কারণে পিতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলে দুজন মিলে আবদুর রহমান বদির ছোট বোন শামসুন নাহারের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা ঘরোয়া ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। আবদুর রহমান বদি কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এখন আমাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। 

জানতে চাইলে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ওসমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাদী মোহাম্মদ ইসহাকের মা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেছেন সেটি মায়ের স্বীকারোক্তি। ওই সময়ে বিয়ে পড়ানো মৌলভি আবদুস সালাম ও সাক্ষী এখলাছ এখন বেঁচে নেই। মা সুফিয়া খাতুনের ওপর নির্ভর করে বাদী পিতৃত্ব দাবি করে আদালতে আবেদন করেছেন। এরপরও আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি আদালত দিন ধার্য করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত