আবর্জনার স্তূপ থেকে টাকা!

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২৯ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ামার টাউনশিপের বাসিন্দা কোলানি সিয়েভা। পেশায় তিনি একজন মালি। তার শহরের একটি আবর্জনার স্তূপকে শাকসবজির এক বিশাল ক্ষেত বা বাগানে পরিণত করেছেন। গোটা পাড়ায় আজ সেই তাজা সবজির চাহিদা রয়েছে। সবজি বিক্রির আয়ের কল্যাণে সিয়েভা পাড়ার পাঁচ তরুণকে মালি হিসেবে নিয়োগ করতে পেরেছেন। পুরো দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা কেউ কেউ ময়লার বাগান সবজি বা ফুলের বাগানে রূপান্তর করেছেন কেউ বা ময়লাকে রিসাইকেল করে বানাচ্ছেন অন্য কোনো বস্তু।

কোলানি তার উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, প্রথমত এই বাগান পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করে। কারণ আগে মানুষ এখানে জঞ্জাল ফেলত। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এটি সমাজের কাজে লাগছে। এই বাগানের বৃদ্ধি ও সাফল্যের জন্য আমার আরও মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন। কারণ আমি সব সময় এখানে রয়েছি।

সবজির ক্ষেতে সিয়েভা প্রায় দেড়শ পরিবারের জন্য শাকসবজি উৎপাদন করেন। করোনাকালে কাজ হারিয়েছেন এমন পরিবারগুলোই সিয়েভার ভোক্তা। এজন্য অবশ্য তাকে পয়সা দিচ্ছে মাসিফুন্ডে নামের এক সংঘ। জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই যৌথ উদ্যোগের আওতায় ওয়ামার টাউনশিপ তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সবজি উৎপাদন ছাড়াও ওয়ামার টাউনশিপে রিসাইক্লিংয়ের কাজ করছে রি-ট্রেড নামের এক সংগঠন। সংগঠনটি শহরের বাসিন্দাদের আবর্জনা রিসাইক্লিং করার বিষয়ে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। মারিয়া ডি অ্যাঞ্জেলো গ্রেভার এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাত্।া তিনি বলেন, মানুষ মনে করে ফেলে দিলেই জিনিসপত্র উধাও হয়ে যায়। কিন্তু সেসব যেখানে জমা হয়, সেই জঞ্জালের স্তূপের আশপাশে অনেক মানুষ বসবাস করে। এমন পরিবেশ কোনো মানুষের বসবাসের যোগ্য নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা সত্যি সেই পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করছি। কারণ আমাদের নথিবিহীন আবাসন এমন সব এলাকার কাছে অবস্থিত, সেখানে মানুষকে থাকতে হলে আমরা সেই সব এলাকাকে সেরা করে তুলতে চাই। তিনি জানান, বাণিজ্যিক রিসাইক্লিং কোম্পানির তুলনা রি-ট্রেড প্রকল্পে কুড়ানিরা অনেক ভালো বিনিময়মূল্য পান। ব্যক্তিগত চাঁদা ও দামি উপাদান বিক্রি করে পাওয়া অর্থের কল্যাণে এই সংগঠনের দোকান চালানো হয়। রি-ট্রেড প্রকল্পের কল্যাণে জঞ্জাল কুড়ানোর কাজ স্বীকৃতি পেয়েছে, যার ফলে সামান্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস খুলে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত