পায়রাবন্দর দেশের অর্থনীতির সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে : নৌ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৩৩ এএম

২০৩৫ সালে পায়রাবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পায়রাবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে জরুরি মেইনটেনেন্স ড্রেজিং প্রকল্পের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী  বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, ২০৩৫ সালে পায়রাবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। পায়রাবন্দরের বাকি যে কার্যক্রমগুলো আছে, সেগুলো খুব দ্রুতই সম্পন্ন করতে পারব।

পায়রাবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে (ইনার ও আউটার চ্যানেল) ৬ দশমিক ৩ মিটার গভীরতা বজায় রাখার লক্ষ্যে জরুরি মেইনটেনেন্স ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জান ডে নুলের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী রাবনাবাদ চ্যানেলের (ইনার ও আউটার চ্যানেলে) প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ১০০-১২৫ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট চ্যানেলে আনুমানিক ৯ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হবে। ১৮ মাস সময়ের মধ্যে ড্রেজিং কাজ সমাপ্ত করতে প্রায় ৪৩৭ দশমিক ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটির ব্যয় পায়রাবন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে সংকুলান করা হবে।

২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পদার্পণ করবে উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশের লক্ষ্য ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। পৃথিবীর সব অর্থনীতিবিদ বলছেন, বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তার আগেই উন্নত দেশ হবে। আমাদের বিশ^াস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে, ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত দেশে পদার্পণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই প্রেরণা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সারা বিশে^ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখন দরিদ্র দেশ নয়। সেই জায়গায় নদীমাতৃক যে বাংলাদেশ, সমুদ্রবেষ্টিত বাংলাদেশের বিরাট সম্ভাবনা। সে জায়গায় আমাদের পায়রাবন্দর বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আমরা আশাকরি আগামীতে যে ক্যাপিটাল ড্রেজিং আমরা করব, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি অর্থ সহায়তায় করতে যাচ্ছি। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট গর্বের বিষয়। আমরা এখন বিদেশি সাহায্যে নয়, নিজেদের অর্থায়নে বড় বড় কাজ করতে যাচ্ছি। যে চ্যালেঞ্জটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছিলেন বিশ^ব্যাংক অর্থ প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়েই। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ এখন আর কারও মুখাপেড়্গী নয়, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখছে। আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করব। আজ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। যখন পদ্মা সেতু চালু হবে, তখন পায়রাবন্দরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রাবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর একটি স্বপ্নের প্রকল্প। পায়রাবন্দর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হবে। বিশাল সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার জন্য পায়রাবন্দর এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি এবং ‘শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্ট’ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর হুমায়ুন কল্লোল ও জান ডে নুলের প্রকল্প পরিচালক জান মোয়েন্স। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মামুনুর রশিদ।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, পায়রাবন্দরে ইতিমধ্যে স্থাপিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিসিপিসিএল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কয়লা সরবরাহ করার লক্ষ্যে কয়লাবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং পায়রাবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সিমেন্ট, ক্লিংকার, ফুডগ্রেন, ফ্লাইঅ্যাশ, সার, কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়াল ইত্যাদি মালামাল পরিবহন সুবিধার্থে চ্যানেলের (৬ দশমিক ৩ মিটার গভীরতা) রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত