জয়পুরহাটে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত বেড়ে ১২

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:২৩ পিএম

জয়পুরহাটে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ জন।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে সদরের পুরানাপৈল রেলগেটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আট ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

হতাহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নেওয়ার পর গুরুতর আহত ৫ জনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে নিহতদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা ও আহতদের চিকিৎসার সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা উত্তরা ট্রেনটি রাজশাহীতে যাচ্ছিল।

অপরদিকে জয়পুরহাট থেকে হিলি যাওয়ার পথে পুরানাপৈল রেলগেটে লাইনের উপর বাসটি ওঠামাত্রই ট্রেনটির মুখোমুখি ধাক্কায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

রেল ক্রসিং গেট না নামানোর কারণে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সময় ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেয়ার পথে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নেওয়ার পর গুরুতর আহত ৫ জনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে গাড়ি হেলপারের মৃত্যু হয়। হেলপারের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- শহরের চিত্রাপাড়ার মৃত মোন্ডা আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৬০), জেলার পাঁচবিবির আটুল গ্রামের আলতাব হোসেনের দুই ছেলে সানোয়ার হোসেন বাবু (৩০), আরিফুর রহমান রাব্বি (১৮), আটাপাড়ার মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম নাসিম (২৮), সদরের হিচমী দক্ষিনপাড়ার মৃত মানিক হোসেনের ছেলে রমজান আলী (৩৬), কুঠিবাড়ীর শরিফুল ইসলামের ছেলে আ. লতিফ (২৯), আক্কেলপুরের চকবিলা গ্রামের দুদু কাজির ছেলে সাজু মিয়া (২৬), ক্ষেতলালের ইটাখোলার মংলার ছেলে সুমন (৩৫), নওগাঁর রানীগগরের বিজয়কান্দির গ্রামের গোড়া মিয়ার ছেলে বাবু (৫৫), টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরের মাটিকাটা গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে জুলহাস (৬০)।  

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ফায়ার সার্ভিস ও  সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কাজ করছে। রেলওয়ের জিআরপি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। তারাও ঘটনাস্থলে এসেছে। তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

জিআরপি সৈয়দপুরের এসআরপি সিদ্দিকী তানজিরুল রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে এসেছি, উদ্ধার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা তদন্ত কমিটি করেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত ১২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। রেলওয়ের জিআরপি পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত