বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ: ১৭ মাদকসেবী পুলিশ সদস্য শনাক্ত

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৪০ পিএম

ডোপ টেস্টে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১৭ সদস্যের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এ ঘটনায় মাদক কারবারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া একই অপরাধে চারজনকে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরিচ্যুতির অপেক্ষায় রয়েছে আরও কয়েকজন। বুধবার বিএমপির পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএমপি সূত্র জানায়, গত বছর অক্টোবরে বিএমপির সন্দেহভাজন সদস্যদের ডোপ টেস্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতি মাসেই দৈবচায়ন পদ্ধতিতে চলছে টেস্ট। গত ১৫ মাসে ৪৮ পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করা হয়। এর মধ্যে ১৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। অর্থাৎ তারা মাদকসেবী। এছাড়া ওই ১৭ জনের মধ্যে ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বিএমপির উপকমিশনার (সদর) আবু রায়হান মো. সালেহ বলেন, অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি মাদক কেনাবেচায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১২ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ ১৭ সদস্যের মধ্যে ইতিমধ্যে কনস্টেবল থেকে এএসআই পর্যায়ের চারজনকে চ‚ড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পজিটিভ আরও ৮ থেকে ১০ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্ত সদস্যদের ধরতে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে গোয়েন্দা নিয়োগ করা হয়েছে। একজন সহকারী কমিশনার সরাসরি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করে দৈবচায়ন ভিত্তিতে তাদের ডোপ টেস্টসহ পরবর্তী অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তাদের ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, নৈতিকভাবে প্রতিটি পুলিশ সদস্য সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত থেকে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে কাজ করবে। সেই পুলিশ সদস্যরা কোনোভাবেই মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না। আইজিপির নির্দেশনা রয়েছে কোনো পুলিশ সদস্য মাদকে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার। সে অনুযায়ী সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের প্রতি মাসে নিয়মিত ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। টেস্টে কারোর রিপোর্ট পজিটিভ এলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাদের চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত