নারায়ণগঞ্জে রেল ক্রসিং এর গেইট কিপার ১২ বছরের শিশু

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৩ পিএম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে সড়কে গেট কিপারের দায়িত্ব পালন করছে ১২ বছরের শিশু শান্তা। পাশাপাশি হাতের ইশারায় সড়কের যানবাহন থামাচ্ছে একাই। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্রসিংয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছে সে। ব্যস্ততম এলাকা হওয়ায় সব সময় ভিড় লেগেই থাকে ক্রসিংয়ে। রেল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নেওয়ায় ইসদাইর বাজার কমিটি ও ইসদাইর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বন্ধন গেট কিপার নিয়োগ দেয় বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক সাংবাদিক ফতুল্লার ইসদাইর বাজার রেলক্রসিং এ দুই হাতে রশি টেনে রেলক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার ফেলতে দেখে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড দেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ইসদাইর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বন্ধন এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় ১৬ বছর আগে আমাদের বিদ্যালয়ের দুই শিশু শিক্ষার্থী ক্রসিং পার হওয়ায় সময় ট্রেনে কাটা পড়ে। তখন আমরা রেলওয়ের কাছে গেট কিপার নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ জানায়, এটা তাদের তালিকাভুক্ত ক্রসিং না, যে কারণে গেট কিপার দেওয়া সম্ভব না। ক্রসিংটি ঝুঁকিপূর্ণ যাওয়ায় আমরা শান্তার বাবা আলমাছ মিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। চার বছর পরে আলমাছ মিয়া ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তার স্ত্রী নাসিমা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।’

শান্তার মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী চার হাজার টাকা বেতনে গেট কিপার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। আমি ১২ বছর ধরে আছি, বেতন বেড়ে আট হাজার টাকা হয়েছে। বড় মেয়ে পোশাক কারখানায় কাজ করতো, দুজনের আয়ে সংসার চলে যেত। করোনার শুরুতে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। এখন ঘরে এক ছেলে আর এক মেয়ে। আট হাজার টাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে আমি পিঠা বিক্রি করি আর শান্তা ক্রসিংয়ের দায়িত্ব পালন করে। দুই মাস হলো শান্তা এই কাজ করছে।’

চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাজা মুহাম্মদ সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই রেলক্রসিংটি পিডব্লিউডি-এর অধীনে। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন।’

রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৗশলী (পথ) মোজ্জামেল হক বলেন, এটি অবৈধ ক্রসিং। ডাবল লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। ক্রসিংয়ে পরিবর্তন আসবে। নতুন লাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে যে নারী দায়িত্ব পালন করছেন তাকেই নিয়োগ দিতে সুপারিশ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত