ইসলাম মানুষের জন্য বিধানকে সহজ করেছে। এ উদ্দেশ্যেই অজুর জন্য পা ধোয়ার পরিবর্তে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ করেছে। যাতে শীতের তীব্রতা কিংবা অন্য কোনো কারণে ইবাদতে কষ্ট না হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
মাসেহ বৈধ হওয়ার শর্ত
এক. অজু করে পা ধোয়ার পর মোজা পরিধান করা। (সহিহ্ বুখারি, হাদিস : ১৯৯)
দুই. মোজা দ্বারা অন্তত টাখনু পর্যন্ত ঢাকা থাকতে হবে। (সহিহ্ মুসলিম, হাদিস : ৩৫৪)
তিন. মোজা ফাটাছেঁড়া হলে, পায়ের কনিষ্ঠ আঙুলের তিনগুণের চেয়ে কম অংশ ফাটাছেঁড়া হতে হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৪২০; আল-আশবাহ ১/১১৪; আল মাওসুআতুল ফিকহিইয়া আল-কুয়েতিইয়া ৩৭/২৬৫)
চার. উভয় মোজা বেঁধে রাখা ছাড়াই পায়ে লেগে থাকতে হবে এবং ওই মোজা দিয়ে ধারাবাহিক পথচলার উপযোগী হতে হবে। (আল মাওসুআতুল ফিকহিইয়া আল-কুয়েতিইয়া ৩৭/২৬৪)
উল্লেখ্য, আমাদের দেশে প্রচলিত সাধারণ সুতার মোজার ওপর মাসেহ সহিহ্ হবে না।
মাসেহর পরিমাণ
মোজার ওপর মাসেহর ক্ষেত্রে হাতের ছোট তিন আঙুলের সমান পায়ের ওপরের অংশে মাসেহ করা ফরজ। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪০; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস : ১৪৩৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/১৮৫)
পায়ের আঙুলের মাথা থেকে হাতের সব আঙুল প্রশস্ত করে টাখনু পর্যন্ত মাসেহ করা সুন্নত। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/১৮৫, কিতাবুল আসার : ১/৭২)
মাসেহর মেয়াদ
মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত মাসেহ করা জায়েজ। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৫)
অজু করে মৌজা পরার পর যখন অজু ভাঙবে, তখন থেকে এই সময় গণনা শুরু হবে। মৌজা পরিধানের সময় থেকে হিসেব করা হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/১৮০)
মুকিম যদি মাসেহ করার পর সফর আরম্ভ করে, তবে মুসাফিরের সময়সীমা পরিপূর্ণ করবে। তেমনি মুসাফির যদি মাসেহ করার পর মুকিম হয়ে যায়, তবে মুকিমের নির্ধারিত মেয়াদ পূরণ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৫, মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক : ১/২২১)
মাসেহ ভঙ্গের কারণ
এক. যেসব কারণে অজু ভেঙে যায়, সেসব কারণে মাসেহও ভেঙে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ৬৯)
দুই. মোজা খোলার কারণে মাসেহ ভেঙে যায়। (সুনানুল কুবরা, হাদিস : ১৪২২)
তিন. মোজা যদি পায়ের টাখনুসহ বেশির ভাগ অংশ বের হয়ে যায়, তখন মাসেহ ভেঙে যায়। (সুনানুল কুবরা, হাদিস : ১৪২২ এবং ১৩৯৬)
চার. নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাধ্যমে মাসেহ ভেঙে যায়। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/৪৬)
পাঁচ. উভয় মোজার কোনো একটির বেশির ভাগ অংশে পানি পৌঁছে গেলে মাসেহ ভেঙে যায়। (মুআত্তা মুহাম্মদ ২/৫৮৭)
উল্লেখ্য, পাগড়ি, টুপি ও বোরকার ওপর মাসেহ করা জায়েজ নেই। তেমনি হাতমোজার ওপরও মাসেহ করা জায়েজ নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/২৩; আবু দাউদ, হাদিস : ১৪০)
