কলাবাগানে কিশোরীকে নির্যাতনের পর ‘হত্যা’

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:১৯ এএম

রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসায় এক কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুশকা নুর আমিন (১৬) নামের ওই কিশোরী ডলফিন গলির এক বান্ধবীর বাসায় গ্রুপ স্টাডি করতে গেলে নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে যে বাসায় কিশোরীকে নির্যাতন করা হয় সেটি অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাসা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের ধারণা, ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় দিহান ছাড়া আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। দিহান একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এ লেভেলের ছাত্র। দিহান পুলিশের কাছে দাবি করেছে, অনুশকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল রাত পৌনে ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাশ জানান, দিহানের দাবি, তার সঙ্গে আনুশকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দিহানের সঙ্গে দেখা করতে কলাবাগান আসে মেয়েটি। দিহান তাকে ডলফিন গলির নিজ বাসায় নিয়ে যায়। সে সময় দিহানের বাসায় তার পরিবারের কেউ ছিল না।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দিহান ও তার বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় আনুশকাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের প্রাথমিক ধারণা মৃত্যুর আগে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হতে পারে। দিহানের বাসায় আনুশকাকে হত্যার আলামতও পাওয়া গেছে।

এদিকে চিকিৎসকরা বলেছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। কিশোরীর পেটের ডান পাশে আঘাতের চিহ্নও ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

নিহত কিশোরীর স্বজনদের দাবি, বৃহস্পতিবার কলাবাগানের এক বান্ধবীর বাসায় গ্রুপ স্টাডি করতে যায় আনুশকা। সেখানেই বন্ধুরা তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে তারা তাকে হত্যা করে।

নিহত কিশোরীর দুলাভাই শরীফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সামনে ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় মাঝেমধ্যেই গ্রুপ স্টাডি করতে যেত আনুশকা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ওই বান্ধবীর বাসায় যায় সে। দিহান তার পূর্ব পরিচিত ছিল না।

ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিশোরীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। সে প্রাথমিকভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিনজনকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ধর্ষণ কি না তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এটি যাচাই-বাছাই চলছে। নির্যাতন কয়জন করেছে তা তদন্ত শেষে বলা যাবে। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল থেকে আমরা তার লাশ উদ্ধার করেছি। তাকে হাসপাতালে আনার পর কর্র্তৃপক্ষ মৃত ঘোষণা করে। তবে ভর্তি করা হয়নি। তাকে নিয়ে আসে দিহান, যাকে আমরা আটক করি। পরে হাসপাতালে তার আরও তিন বন্ধু আসে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে রেখেছি। ডিসি আরও বলেন, লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বলতে পারব কী কারণে মারা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত