সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে বান্দ্রা মেট্রোপলিটন আদালতের নির্দেশ মেনে শুক্রবার থানায় গিয়ে বয়ান রেকর্ড করিয়েছেন কঙ্গনা রনেৌত। আর এবার তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন পাঞ্জাবের মহিন্দর কাউর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই নারীকেই কঙ্গনা ‘শাহিনবাগের দাদি’ বিলকিস বানু বলে ভুল করেছিলেন। সেই টুইট প্রবল বিতর্কের পর মুছেও দিয়েছিলেন। কিন্তু মামলা পিছু ছাড়ল না।
এখন সেই টুইটকে কেন্দ্র করেই পাঞ্জাবের এক আদালতের দ্বারস্থ বর্ষীয়ান মহিন্দর। বলিউড তারকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় সম্মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আগামী ১১ জানুয়ারি আদালতে শুনানির দিন।
ঠিক কী করেছিলেন কঙ্গনা? কৃষক আন্দোলনে যোগ দেওয়া ওই বৃদ্ধাকে বিলকিস বানুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে বিরূপ মন্তব্য করে টুইট করেছিলেন তিনি। লেখেন, “হা হা! ইনি তো সেই দাদি, যাকে টাইমস ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় রাখা হয়েছিল। একে তো ১০০ রুপির বিনিময়েই পাওয়া যায়।”
এরপরই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। বেগতিক দেখে কঙ্গনা টুইটটি মুছেও দেন। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে স্ক্রিনশট। মিকা সিং, দিলজিৎ দোসাঞ্জের মতো তারকা ও বক্সার বিজান্দার সিং-সহ অনেকে কড়া সমালোচনা করেন এ মন্তব্যের।
আদালতে ৭৩ বছরের মহিন্দর কাউর জানান, কঙ্গনার ওই টুইটের কারণে তাকে প্রবল মানসিক হেনস্তা ও অবমাননার মধ্যে পড়তে হয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও আম জনতার কাছে তার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আরও অভিযোগ, এমন ভুল করার পর ক্ষমাও চাননি কঙ্গনা।
বিতর্কের শুরুতে কঙ্গনাকে কটাক্ষ করেছিলেন মহিন্দর। জানান, এই বয়সেও তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করেন। কাস্তে দিয়ে ফসল কাটেন, ক্ষেতের যত্ন নেন নিয়মিত। বলেন, ‘‘আমি কী করব একশো টাকা দিয়ে? আমার তিন মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আমার সঙ্গে থাকে।”
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে কঙ্গনার বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগে আদালতে অভিযোগ করেন গীতিকার জাভেদ আখতার। পুরোনো প্রেমিক হৃতিক রোশনও আগের একটি মামলা চালু করার আরজি জানিয়েছেন।
