নির্বাচনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দায় ডিসি-এসপিকে নিতে হবে: আবদুল কাদের মির্জা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:৪৭ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আমি অনিয়মের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ সৃষ্টি করার জন প্রতিরোধ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই নির্বাচন করছি।

শনিবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পথসভায় আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আসলে দুঃখজনক হলেও সত্য- আজকে আমি যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি, আমি যখন অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, আমি যখন নোয়াখালীর ত্যাগী নেতাদের কথা বলি, আমি যখন কবিরহাটের আমাদের নিরীহ কমীদের কথা বলি, কোম্পানীগঞ্জের অসহায় ছেলেমেয়েদের চাকরির কথা বলি, এ এলাকার মানুষের গ্যাসের কথা বলি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলি, তখন আমাকে জাতীয়ভাবে বলা হয় আমি নাকি পাগল, উন্মাদ। এর বিচারটা আপনাদের কাছে দিলাম।

জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি পাগল? এ সময় জনগণ সমস্বরে উত্তর দেন- না। না। এরপর তিনি বলেন ‘১৬ তারিখে আমি পাগল না কি সেটা প্রমাণ করবো’।

image

নোয়াখালীর আঞ্চলিক উচ্চারণে তিনি বলেন, যে আমাকে পাগল আর উন্মাদ বলেছে, গোপালগঞ্জে যেখানে ৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগ সেখান থেকে সে এমপি হয়েছে। আগে মন্ত্রী ছিল এখন নেই। ওনার সম্পর্কে সবাই জানে। কী কী অনিয়ম তিনি করেছেন। অনিয়ম না করলে ওনাকে মন্ত্রী বানায়নি কেন? উনি আমাকে বলেন পাগল উন্মাদ!

আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আরেকজন নেতা বলেন, দায়িত্বশীলতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। আপনিতো দায়িত্বশীল ব্যক্তি, আপনার বাড়ি কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যারা ভেঙেছে- আপনি কি দায়িত্বশীল লোক? এগুলো বন্ধ করেন। কি করবেন? বহিষ্কার করবেন? জেলে দেবেন? মেরে ফেলবেন? আমি সারা দেশের কথা বলিনি, আমি আপনাদের কথা বলিনি, আমি বলেছি নোয়াখালী ফেনীর অপরাজনীতির কথা। আপনারা কোনো নিজেদের গায়ের ওপর নিচ্ছেন? 

তিনি বলেন, আজকে আমি মনে করি, শেখ হাসিনা অসহায়, কেন অসহায়? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মৌলবাদী অপশক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি আজকে শেখ হাসিনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আজকে দলের অভ্যন্তরে চাটুকারেরা রাতদিন শেখ হাসিনাকে উত্ত্যক্ত করছে। দল দেখতে হয়, দেশ দেখতে হয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। তার কি সময় আছে আমার এই কোম্পানীগঞ্জ দেখার, নোয়াখালী দেখার, ফেনী দেখার ? 

মির্জা কাদের বলেন, দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ব্যবস্থা করতে হবে শেখ হাসিনার। তাহলে আপনাদের কাজ কি? আপনারা কী কী করেছেন? আমি সবার কথা বলি না। ভালো লোক মন্ত্রীদের ভেতরে আছে না হলে দেশ চলে কীভাবে। আমলাদের ভেতরে, সাংবাদিকদের ভেতরে ভালো লোক আছে। কিন্তু অধিকাংশ আজ শেখ হাসিনাকে অসহযোগিতা করছে। এই চোর নেতাদের যে বিচার হয়েছে, এটা কেউ কি অতীতে করতে পেরেছে? পিন্টুর বিচার কি খালেদা জিয়া করতে পেরেছে? শেখ হাসিনা করেছে। মিথ্যা কথা বলছি? আমি বলেছি ,সাহস করে সত্য কথা বলবো। বিএনপি ওয়ালারা মনে কষ্ট নিলে আমাদের কিছু যায় আসে না, না হয় ভোট দেবেন না, এই তো। পিন্টুর বিচার তারা করেনি কিন্তু শেখ হাসিনা সাহসী, সে পেরেছে। সে বিচার করছে। 

এ সময় তিনি বলেন, অস্ত্রের ঝনঝনানী চলছে। আপনারা জানেন না? এই যে প্রশাসন, প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে আমি বলছি। এখানে আজকে অস্ত্রের ঝনঝনানী চলছে। কবিরহাটে এক বাড়িতে আমাদের পৌরসভার নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছে। ফেনীতে একটা বাসায় বসে আমাদের নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছে। তারপর এখানে কিছু কিছু লোকের কাছে অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে। গত পরশুদিন চট্টগ্রাম থেকে কবিরহাটে অস্ত্র এসেছে। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। ওনাদের কথা কি বলবো? এখানকার প্রশাসনকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। এরাতো বাঁধা। নোয়াখালীর ডিসির মুখের সঙ্গে একজন অপকর্মকারী নেতার মাস্ক। জনতাকে জিজ্ঞেস করেন আছেনি? জনগণ উত্তর দেয় ‘আছে’। 

নোয়াখালীর ডিসি সাহেব কসম করে বলুক তার মুখের সঙ্গে মাস্ক ছিল না তাহলে আমি খোদাকে হাজির নাজির করে বলবো যদি একরাম চৌধুরীর মুখের সাথে (আঁইর) মাস্ক তার মুখের সঙ্গে না দেখি আমি এখনই লাল দরজার সামনে গিয়ে বসে থাকবো। তার কাছে কি ন্যায় বিচার পাবেন? এরা মাসোহারা খায়। ওবায়দুল কাদের সাহেব রাগ করলে আমি কি করবো? আমি আর কতক্ষণ বরদাশত করবো? এসপি সাহেবকে আমার এলাকার সব ঘটনা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো আওয়াজ নেই।

বিগত কয়েকটি নির্বাচন ও অতীতে পুলিশের ওপর জামায়াতের হামলার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এখনো সে অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- এখানকার প্রশাসনকে বলে লাভ নেই। যদি কোম্পানীগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র চলে, নির্বাচনে রং লাগানোর জন্য ষড়যন্ত্র চলে, যদি কোম্পানীগঞ্জে কোনো মায়ের বুক খালি হয়, যদি কোম্পানীগঞ্জে আমার কোনো কর্মীর গায়ে কেউ হাত দেয়, এখানে যদি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, কারও ঘরে আগুন লাগায়, কারও চিনে (ঘড়েরগাদা) আগুন লাগায়, সব দায়িত্ব ডিসি-এসপি আপনাদেরকে নিতে হবে। জনতার কাতারে আপনাদের বিচার করা হবে। উন্নয়ন অনেক হয়েছে। কোনোটা বাকি নেই। যেগুলো বাকি আছে সেগুলোও করেছি। 

নির্বাচনের বিষয়ে আমার বক্তব্য স্পষ্ট। সেটা হচ্ছে-আমার ভোট আমি দেব, যাকে ইচ্ছা তাকে দেব’ সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনেছেন কি জন্য? জীবন যৌবন সবকিছু ক্ষয় করে দিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন। এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আজকে ভাতের অধিকার শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে কিন্তু ভোটের অধিকার কি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে? ভোটের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমি কি বলেছি শেখ হাসিনা ভোটের অধিকার হরণ করেছে? কিছু পত্রপত্রিকায় আমাদের ওই তথাকথিত নেতারা বসে বসে সমালোচনা করে, শেখ হাসিনাকে ক্ষেপানোর জন্য। ক্ষেপিয়ে লাভ হবে না, নেত্রী সব বোঝেন। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই পারেন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। আর কেউ পারবে না। খালেদা জিয়া ঘরে ঢুকে গিয়েছে। হাওয়া ভবনের চোর তারেক জিয়া। সে কি দেশের কোনো ভালো কাজ করার মানসিকতায় আছে, বলেন? অতীতে ছিল? সে পারবে না। তাহলে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে? শেখ হাসিনার বাবা এ দেশের স্বাধীনতা দিয়েছে। শেখ হাসিনা মানুষের ভাতের অধিকার দিয়েছে। এখন শেখ হাসিনাকেই এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা এখান থেকে সহযোগিতা করবো। 

এ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাহাব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত