কেরানীগঞ্জের পটুয়াখালী ঘাটে ৪ মাসেও চালু হয়নি খেয়া

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৩৮ পিএম

চার মাস পার হলেও কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গার পটুয়াখালী লঞ্চঘাট খেয়া নৌকা চলাচলের উপযোগী করে দেয়নি ঢাকা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ।

একমাত্র বাদামতলী ডাবচর ঘাট দিয়ে নৌ পারাপারে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ঘাটটি চালু করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিস্নউটিএ) কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিআইডবিস্নউটিএর নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আবদুস ছালাম বলেন, পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে পন্টুন সরানোর কাজ চলছে। আশা করি, শিগগিরই এ ঘাটে খেয়া নৌকা চলাচল করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বুড়িগঙ্গায় নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে গত ৩ সেপ্টেম্বর সিমসন ও ওয়াইজঘাট বন্ধ করে বিআইডবিস্নউটিএ শুধু বাদামতলীর ডাবচরঘাট চালু রাখে। একমাত্র ঘাটে খেয়া পারাপারে চরম বিপাকে পড়েন কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ী, মাঝি ও স্থানীয়রা। পরে তাদের আন্দোলনের মুখে ছয় দিন পর পন্টুন সরিয়ে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দেয় ঢাকা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চার মাস পরও ঘাটটি চালু হয়নি।

রবিবার সরেজমিনে ডাবচরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, তিন ঘাটের যাত্রীরা একটি ঘাটে পারাপার হওয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। নৌকা ভেড়ানো ও যাত্রী ওঠা-নামায় চলছে প্রতিযোগিতা। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নারী-শিশু ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ধানমণ্ডি ২৭ থেকে কালীগঞ্জে পোশাক কিনতে আসা পাইকার মো. সেলিম জানান, প্রায় একযুগ তিনি কালীগঞ্জ থেকে বস্তাভর্তি পোশাক কিনে সিমসনঘাট পার হতেন। ডাবচরে সারাক্ষণ ভিড় থাকে। শ্রমিকও পাওয়া যায় না।

ঘাটের খেয়া নৌকার মাঝি রহমত মিয়া বলেন, অন্য কোনো কাম জানি না, নইলে নৌকা বাওন ছাইরা দিতাম। ঘাট তো ছোট, সারা দিনই নৌকা নিয়া হুড়াহুড়ি করতে হয়। আমগো কথা ভাইবা সরকার আরেকটা ঘাট চালু করলে সুবিধা হইতো।

ওয়াইজঘাট ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কুদ্দুস জানান, সারা দেশ থেকে ট্রলারে ডাবচর ঘাটে কলা, ডাব, তরমুজ, তালসহ বিভিন্ন ফল আসে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ঘাট নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় ঠিকমতো ট্রলার ভিড়তে পারে না। কৃষকরা ফল না পাঠানোয় ব্যবসাবাণিজ্য কমে গেছে, বেপারিদের টাকা দাদন দিয়ে অনেকে লোকসানে পড়েছেন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, এখন ক্রেতা নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী হুমকির মুখে পড়বে। বিআইডব্লিউটিএ তিন মাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমরা দ্রুত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত