চট্টগ্রামে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০১:৩৬ এএম

করোনা মহামারীর মধ্যে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবের বর্জ্য সংগ্রহের পর পরিশোধন করে ধ্বংস করছে ‘চট্টগ্রাম সেবা সংস্থা’। সংস্থাটির দায়িত্বে রয়েছেন জমির উদ্দিন। নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে তিনি ও তার দল মাসের পর মাস বিপজ্জনক বর্জ্য অপসারণ অব্যাহত রেখেছে।

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত হয় গত বছরের ৩ এপ্রিল। এরপর ধীরে ধীরে বাড়ে সংক্রমণ। এক পর্যায়ে চমেক, পার্কভিউ, ইম্পেরিয়াল ও সিটি করপোরেশনের আইসোলেশন সেন্টারের বর্জ্য অপসারণে মাসভিত্তিক চুক্তি করে চট্টগ্রাম সেবা সংস্থা। এর বাইরেও তারা ব্র্যাকের ১২টি করোনা বুথ থেকে পাঁচ মাস কোনো অর্থ ছাড়াই বর্জ্য সরিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক বলেন, ‘করোনাকালে সেবা সংস্থা বর্জ্য অপসারণ না করলে যত্রতত্র ছড়িয়ে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ত। সংক্রমণ আরও বাড়তে পারত। প্রতিষ্ঠানটি সাহসিকতার সঙ্গে মানবিকতার নজির স্থাপন করেছে।’

২০১৫ সালে অনুমোদন পাওয়া চট্টগ্রাম সেবা সংস্থা ২০১৭ সালে ১০০টি, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্য ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অপসারণ করে আসছে। সংস্থার চেয়ারম্যান জমির উদ্দিনসহ মোট ৩৫ জন সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ ও ধ্বংস করার কাজে জড়িত। মাঝখানে চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হলেও বাকিরা শহর সুরক্ষায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

জমির উদ্দিন বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে যে কাজ ২ ঘণ্টায় হয়ে যেত, করোনাকালে হাসপাতাল বর্জ্য অপসারণে কর্মীদের ৬-৮ ঘণ্টা লেগেছে। শুধু অর্থ নয়, শহরকে নিরাপদ ও মানুষকে সুস্থ রাখতে আমরা কাজ করছি।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘করোনাকালে মানুষ হাসপাতালের ধারেকাছেও যেত না। অথচ মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম সেবা সংস্থার কর্মীরা মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করেছে। তাদের এ অবদান প্রশংসার দাবি রাখে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত