হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৪ দিন ধরে চাল আমদানি বন্ধ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:৪৯ পিএম

দেশের বাজারে চালের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতির পর বন্দর দিয়ে দেড় বছর পর চাল আমদানি শুরুর কয়েক দিনের মাথায় আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

আমদানি করা চালের এইচএস কোড নিয়ে জটিলতার কারণ দেখিয়ে গত চার দিন ধরে ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ রাখায় গত তিন দিন ধরে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক হাজার টন চাল আটকা পড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতির পর গত ৯ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়। ওই দিন বন্দর দিয়ে ৩টি ট্রাকে ১১২টন চাল আমদানি হয়। এর পরের দিন ১০ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ২০টি ট্রাকে ৮২৮টন চাল আমদানি করা হয়। একইভাবে ১১ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ৮টি ট্রাকে ৩২৯টন ও ১২ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে ২৩টি ট্রাকে ৮৮৪টন চাল আমদানি হয়।

কিন্তু এর পর এইচএস কোড নিয়ে জটিলতা দেখিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি বুধবার, ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ও ১৬জানুয়ারী বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি শনিবার বন্দর দিয়ে কোন প্রকার চাল আমদানি হয়নি। আজ রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোন চাল আমদানি হয়নি। দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় চাল আমদানিতে পড়তা না থাকায় ৩০ শে মে ২০১৯ সাল থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

সম্পªতি চালের ঊর্ধ্বমুখী রুখতে আমদানি শুল্ক ৬২.৫ থেকে দুই দফা কমিয়ে ১৫ভাগ করে সরকার এর পর বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়।

হিলি স্থলবন্দরের চালের কার্য সম্পাদনকারী আমদানিকারক মনোনীত সিআ¨ন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর চার দিন বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছে। এর পর থেকে চালের এইচএস কোড নিয়ে জটিলতা দেখিয়ে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছে ভারত।

ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখন বলছে ,এইচএস কোড ও পণ্যের নাম ঠিক করতে হবে। বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চালের এইসএসকোড রয়েছে নন বাসমতি হাসকিং ব্রাউন রাইস সেটি তারা গ্রহণ করছেন না তারা চাইছে শুধুমাত্র নন বাসমতি রাইস। এখন মন্ত্রণালয় থেকে চাল আমদানির অনুমতিপত্রে চালের যে এইসএসকোড দেওয়া রয়েছে এর বাইরে তো আমাদের যাওয়ার ক্ষমতা নেই। এই অজুহাত দেখিয়ে গত চার দিন ধরে ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ রেখেছেন আজও বন্দর দিয়ে কোন চাল রপ্তানি করেনি। এতে করে আমাদের অনেক আমদানিকারকের কয়েক হাজার টন চাল দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়ে আছে।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ ও চাল আমদানিকারক মামুনুর রশীদ বলেন, আমনের ভরা মৌসুমে দেশের বাজারে ধানের দাম বেশি দেখিয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালের বাজার পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। এমন অবস্থায় দেশে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক বেসরকারি আমদানিকারককে বিভিন্ন শর্ত মেনে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারক প্রায় ৬০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পায়। সরকারি সেসব নির্দেশনা মেনে বন্দর দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশী সময় পর গত ৯ জানুয়ারি শনিবার থেকে চাল আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। এসব চাল দেশের বাজারে প্রবেশের পর চালের মূল্য কমতে শুরু করেছিল। এবারে ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এইচ এসকোডের জটিলতা দেখিয়ে। এতে করে গত তিন দিন ধরে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রিপন রায় বলেন, গত ৯ জানুয়ারি থেকে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। এরপর বন্দর দিয়ে চার দিন চাল আমদানি হলেও এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আর চাল আমদানি হয়নি। আমরা যতটুকু শুনেছি ভারতে ওদের নাকি কি সমস্যা হয়েছে যার কারণে তারাই চাল রপ্তানি করছেন না। আর যেহেতু বিষয়টি ভারতীয় তাই আমাদের কিছু করার নেই, কিন্তু আমাদের তরফ থেকে কোন প্রকার সমস্যা নেই। আর যদি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোন এইচএস কোড পরিবর্তন করে সে ক্ষেত্রে সেটি পেয়ে যাবো আমরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত