চট্টগ্রাম নগরীতে ছাত্রলীগ কর্মী রোহিত খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার, মাদক, ইট বালির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মো. মহিউদ্দিন (২৯) ও সাইফুল ইসলাম বাবু (২০)। রবিবার ঢাকার মুগদা থেকে মহিউদ্দিন এবং মিরপুর থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, এলাকায় ইট-বালু ও মাদকের ব্যবসা এবং মা-মণি ক্লাবের আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ কর্মী আশিকুর রহমান রোহিতকে খুন করা হয়। অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডকে নির্বাচনী সহিংসতা বলে প্রচার করেছেন। কিন্তু এটি কোনোভাবেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা নয়। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাইফুল ও সাহাবুদ্দিন সাবু ছুরিকাঘাত করে রোহিতকে। যার পরিকল্পনাকারী ছিলেন মহিউদ্দিন। এর মধ্যে পলাতক রয়েছে সাহাবুদ্দিন।
উল্লেখ্য, নিহত আশিকুর রহমান রোহিত (২০) ওমরগনি এমইএস কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গত ৮ জানুয়ারি বিকেলে নগরীর দেওয়ান বাজার ভরা পুকুর পাড় সংলগ্ন কেডিএস গলি এলাকায় ছুরিকাঘাতের শিকার হন রোহিত। পরদিন তার বড় ভাই জাহিদুর রহমান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মহিউদ্দিন, বাবু ও সাহাবুদ্দিন সাবুকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে মাদকবিরোধী পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে বিরোধের জেরে রোহিতকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান আরও বলেন, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোহিত তার বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেও রোহিত তিনজনের নাম বলেছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন মহিউদ্দিন, বাবু ও সাবু। পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে মহিউদ্দিন ও বাবু বেশভূষা পরিবর্তনও করে। তারা ঢাকায় অবস্থান করে সেখান থেকে ভারত পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদ শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দুজনকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানান, বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
