সুন্দরবন থেকে শিকার করা একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়াসহ মো. গাউস ফকির (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও বন বিভাগ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাগেরহাটের সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা পাঁচ রাস্তার মোড়ের বাসস্ট্যান্ড থেকে চামড়াসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব ও বন বিভাগ।
বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া পাচারকারী গাউসকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে চামড়াসহ গ্রেপ্তার হওয়া গাউস ফকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বরিশাল র্যাব-৮ এর কার্যালয় থেকে বাগেরহাটে বন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তবে তিনি বাঘ হত্যার কথা অস্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. গাউস ফকির জেলার শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের প্রয়াত রশিদ ফকিরের ছেলে।
উদ্ধার হওয়া বাঘের চামড়াটি লম্বায় আট ফুট এক ইঞ্চি এবং চওড়ায় তিন ফুট এক ইঞ্চি। বাঘটি বয়স্ক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
গাউস ফকির বলেন, এই বাঘ আমি হত্যা করিনি। আমার পূর্ব পরিচিত এক ব্যক্তি এই চামড়া আমাকে বিক্রি করতে দিয়েছে। ওই ব্যক্তিই বাঘটিকে হত্যা করেছে তবে কবে করেছে তা আমি জানি না। চার দিন আগে সে আমাকে এই চামড়াটি দিয়েছে। পেশায় আমি জেলে। সাগরে মাছ শিকার ধরি। সেও সাগরে মাছ ধরে। আমরা সাগরে এক সঙ্গে মাছ ধরি। মধু সংগ্রহের মৌসুমে সুন্দরবনে গিয়ে আমি মধু সংগ্রহ করি।
তিনি বলেন, যে আমাকে চামড়াটি দিয়েছে তার নাম ওহিদুল। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সে আমাকে চামড়াটি দিয়ে বলেছে চামড়াটি সাত লাখ টাকা বিক্রি করে দিতে পারলে তোমাকে আমি দেড় লাখ টাকা দেব। তার মাধ্যমে এই চামড়া বিক্রির মধ্যস্থতা হয়েছে তার নাম ওবায়দুল করিম। তার বাড়ি শরণখোলার সাউথখালি গ্রামে বলে দাবি করেন গাউস ফকির।
দুপুরে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিং এ সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত শনিবার গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি একটা বাঘের চামড়া বিক্রি হবে শরণখোলায়। আমরা ওই বাঘের চামড়াটি কেনার জন্য ক্রেতা সাজি।
চক্রটির বাঘের চামড়াটি ১৭ লাখ টাকা চাইলে তা পরে ১৩ লাখ টাকায় কিনতে আমরা রাজি হই। পরে আমরা র্যাবের সহযোগিতা নিয়ে শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা পাঁচ রাস্তার মোড়ের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চামড়াসহ শিকারি গাউস ফকিরকে গ্রেপ্তার করি।
গ্রেপ্তার হওয়া গাউসের বিরুদ্ধে বন বিভাগে সেভাবে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তার ফকির বাড়ির (বংশের ) অন্য লোকজনের বিরুদ্ধে বনের বাঘের চামড়া পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বাঘটিকে সুন্দরবনের কোন এলাকা থেকে কত দিন আগে শিকার করে হত্যা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া গাউসের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে তা সে স্বীকার করেননি। তবে গ্রেপ্তার হওয়া গাউসের সাথে একটি চক্র জড়িত রয়েছে তা জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদ করতে চক্রের সন্ধান পাব বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, শিকারিরা খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে বাঘ শিকার করে থাকে। এই বাঘটিকে প্রায় এক মাস আগে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১২ সালের বন আইনের পরিবর্তন এসেছে। তাতে বাঘ হত্যাকারীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। বাঘ হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।
