পিকআপ ভাড়া করে যাত্রী তুলে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ১০:০৫ পিএম

ভাড়া করা পিকআপ নিয়ে রাতে বের হতো তারা। পরে স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে রাস্তা থেকে তুলে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার আগেই টাকা পয়সা ও মোবাইল ফোন লুট করত। তারপর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যেতো। এতে টাকা পয়সা খোয়ানোর পাশাপাশি অনেকেই হতাহতের শিকার হয়েছেন।

পরিবহনকর্মী সেজে ডাকাতি-ছিনতাইয়ে জড়িত এমন একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই চক্রের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানাতে বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চক্রের হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সজল, মুসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, ছুরি, লুণ্ঠিত সাত হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, আপন মিয়া ও নজরুল ইসলাম নামে দুজন সবজি ব্যবসায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণখানের বাসা থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। বিমানবন্দর সড়কের কাওলা ফুটওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে তারা বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন ডাকাতরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে এসে কারওয়ান বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ওই দু’জনকে তুলে নেয়। দুই ব্যবসায়ী পিকআপে ওঠার পরপরই যাত্রীবেশে বসে থাকা ডাকাতরা তাদের টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর তাদের চলন্ত পিকআপ ভ্যান থেকে ফেলে দেওয়া  হয়। এতে আপন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়।

থানা-পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে ডিবি। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে ডিবির গুলশান জোনাল টিম।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রাজধানীতে দিনে পিকআপ ও ট্রাক চলাচল করে না। রাতে চলাচল করে। তাই রাজধানীর দিন ও রাতের চিত্র একটু ভিন্ন। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা এমন ঘটনার সম্মুখীন হলেও সাধারণত থানায় কোনো অভিযোগ জানান না। এ কারণে ঘটনাগুলো পুলিশের অজানাই থেকে যায়। এমন ঘটনার শিকার হলে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানান এ কর্মকর্তা।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আব্দুল্লাহপুর থেকে কারওয়ান বাজার রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী ও যাত্রাবাড়ী থেকে ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় পিকআপ নিয়ে ডাকাতি করে। পিকআপের সামনের অংশে তিনজন বসে এবং বাকিরা যাত্রীবেশে পিকআপের পেছনে থাকে। ঢাকার যেসব এলাকায় মাছ, ফলমূল ও সবজির পাইকারি আড়ত বসে- সেখানে মালপত্র কিনতে যাওয়া ব্যক্তিদের তারা টার্গেট করে। ঘটনার দিন তারা দুই ব্যবসায়ীকে কারওয়ান বাজারে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সুকৌশলে পিকআপ ভ্যানে তোলে। এরপর মুসা ও রফিক তাদের বুকে ছুরি ধরে। তখন পিকআপের সামনে বসা সজল পেছনে চলে আসে এবং ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা প্রথমে আপন ও কিছুক্ষণ পর নজরুলকে ধাক্কা দিয়ে পিকআপ থেকে ফেলে দেয়। তারা সপ্তাহে একাধিক দিন ডাকাতির জন্য বের হয়। সেদিন তারা একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে রাজধানীর বাইরে গিয়ে আত্মগোপন করে থাকে।

ব্যবসায়ী আপন নিহতের ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিমানবন্দর সড়কে চলন্ত একটি পিকআপ থেকে একজনকে ফেলে দেওয়া হয়। মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি সড়কেই পড়ে থাকেন। তার পাশ দিয়ে অন্য যানবাহন চলে গেলেও কেউ তাকে উদ্ধার করেনি।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আগে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ছিল। মেট্রোরেল নির্মাণকাজের জন্য পরে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর থেকেই সেখানে আরও অনেক অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটতে থাকে। চট্টগ্রামে ইউনিয়ন ব্যাংকে কর্মরত এক ব্যক্তি গত ২৬ ডিসেম্বর একই চক্রের খপ্পরে পড়েন। তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত