ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২১, ১১:১৫ পিএম

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলার আবেদন করা হয়েছে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আমলি আদালতে। 

মানহানি মামলার আবেদনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন আবদুল কাদের মির্জা। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আমলি আদালতে এই মানহানি মামলার আবেদন করা হয়। মামলার বাদী অশ্বদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ইউপি সদস্য মো. রিয়াজ উদ্দিন।  

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, একরাম সাহেব (নোয়াখালী ৪ আসনের সাংসদ), জেহান সাহেব, রাজনীতি এখনো বুঝেন না, শিখেননি। টাকা পয়সা আছে তো, অনেক বানিয়েছেন মানুষের থেকে লুট করে। যাদের নাম কখনো শুনিনি। জেহান (সদর উপজেলা চেয়ারম্যান) সাহেব, উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন, কোথায় পেয়েছেন এত টাকা?

তিনি বলেন, আমাদের মামলার ভয় দেখাবেন না, মওদুদ সাহেবের ১৮টা মামলা, ফেইস করিনি? প্রথম মামলা ছাত্র শিবিরের অফিস ভাঙ্গার মামলা, তখনো এখানকার নেতারা জড়িত ছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনরত অবস্থায় রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছি।  আমাদের মামলার ভয় দেখান? জেলের ভয় দেখান? লাভ হবে না। তিনি বলেন, হিতে বিপরীত হবে।

এ সময় তিনি মানহানি মামলার আবেদনকারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সে কে? সে হলো মাদক, নারী কেলেঙ্কারি মামলার আসামি। ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। তারপরে নারী নিয়ে ব্যবসা করার সময় বেগমগঞ্জে ধরা পড়েছে। এই কুলাঙ্গারের কথা বলতে লজ্জা হয়।

তিনি বলেন, অশ্বদিয়া থেকে, নোয়াখালী থেকে জানিয়েছে-এই ছেলে রাতে আমার বোনদের এই সব নেতাদের হাতে তুলে দেয়।

কাদের মির্জা বলেন, ‘শোনেন, বাদীর ভাই সিন্দুলপুরে ডাকাতির ঘটনায় গণপিটুনিতে মারা যায়। সাংবাদিক ভাইরা জানেন না? মিথ্যা কথা বলছি? আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, একটা নয় শত মামলা করেন। আমি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াব। অপরাধী হলে আমার বিচার হবে। আর আপনাদের বিচার গণ আদালতে হবে সেদিন বেশি দূরে নয়। অপেক্ষা করেন। একরাম চৌধুরী সাহেব, লজ্জা হয় না? ৯৬ সালের নির্বাচনের সময়, আমাদের এখানে দোতলায় অফিস ছিল, একটা খাটিয়া ছিল, সে খাটিয়ায় আমি শুয়ে ছিলাম, আপনার রাজনীতির উত্থানের কথা বলছি। আপনি সেখানে গিয়ে আমাকে বললেন, মির্জা ভাই নির্বাচনের খবর কী? আমি শুয়ে আছি। আমার পায়ের নিচে বসে এ কথা বলেছেন। মিথ্যা বললে ওপরে আল্লাহ আছেন। পোস্টার দিয়েছেন, নিচে লেখা আছে- সৌজন্যে একরামুল করিম চৌধুরী, সুন্দলপুর। আপনার তখন নিজের কোনো পরিচয় ছিল না। এইতো সেদিন। পোস্টার দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবের নির্বাচনে। লজ্জা হয় না। টেন্ডার বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্য, লজ্জা হয় না? কষ্ট হয়। আপনি নেতা। এমপি হয়েছেন! আল্লাহ আপনাকে আরও বড় করুক। যদি ভালো হন।’

মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন, আবদুল কাদের মির্জার বক্তব্যের কারণে ভাঙ্গা উপজেলার এমপি নিক্সন চৌধুরী নোয়াখালী জেলা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়। তিনি তার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানকালে মোয়াজ্জিন আজান দিলে তখন তিনি বলেছেন যে, আজান ১০ মিনিট পরে দিলেও চলত। এতে আমি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে মনে করি, তিনি এই মন্তব্য করে পুরো ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ওপর তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তার এই একাধিক কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী এবং স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের মানহানি হওয়ায় এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হওয়ায় আমি বাংলাদেশ যুবলীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আমার হৃদয়ে আঘাত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলাম।

তবে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এখনো কোনো আদেশ দেননি। 

এর আগে বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ. লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে ও পৌর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী প্রমুখ।

এর আগে বিকেল ৫টায় বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত