খুবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৩:৪৩ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার ও তিন শিক্ষককে বরখাস্ত ও অপসারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসীদের উসকে দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায্য দাবির পক্ষে দাঁড়ানোর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপাচার্যরা চান না কেউ মুক্তচিন্তার করুক, সৃজনশীল চিন্তা করুক। তারা চান না অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো মেরুদণ্ড থাকুক। তারা চান এমন শিক্ষক যারা শিক্ষাচর্চার সঙ্গে থাকবে না, বরং তাদের অনুগত হবে।’

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক বলেন, ‘একজন উপাচার্যের কাজ হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার দিকে নিয়ে যাওয়া। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিচার হয়নি। যার ফলে উপাচার্য আজকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে বহিষ্কার করার সাহস পেয়েছে।’

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদার, অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনু, অধ্যাপক মানস চৌধুরী, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন, অধ্যাপক মোহাম্মদ এমদাদুল হুদা, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ ও ২ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন।

এ সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করাসহ বিভিন্ন কারণে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানানোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে অপসারণ এবং একজন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত