দায়িত্ব পালনকালে নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে আওয়ামী লীগ নেতার ‘মারধর’

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:৪৮ পিএম

হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যকর্মী সুরাইয়া আক্তারকে মারধরের অভিযোগে নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুর মোহাম্মদের (৪৫) বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ আহম্মেদ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগে বুধবার রাতে শেখ নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আটপাড়া থানায় এই মামলা করেন।

অভিযুক্ত শেখ নূর মোহাম্মদ রূপচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ইজ্জত আলী মাষ্টারের ছেলে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মী সুরাইয়া আক্তার রূপচন্দ্রপুর গ্রামের পূর্বপাড়া খাঁ বাড়িতে মঙ্গলবার হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার কথা ছিল। অন্য কাজে সুরাইয়া আক্তার ব্যস্ত থাকায় ওই দিন তিনি সেখানে যেতে পারেননি। পরদিন বুধবার সুরাইয়া রূপচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া খাঁ বাড়িতে টিকা দিতে গেলে শেখ নূর মোহাম্মদ তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। সুরাইয়া এর প্রতিবাদ করায় নূর মোহাম্মদ উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সহকারী ফয়জুর রহমান বাধা দিলে নূর মোহাম্মদ তাকেও মারধর করেন। স্বাস্থ্যকর্মী সুরাইয়া তাৎক্ষণিক বিষয়টি আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে ন্যায়বিচার চান।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্যকর্মী সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমি একজন মাঠপর্যায়ের সরকারী নারী কর্মচারী। আমাকে লোকজনের সামনে নূর মোহাম্মদ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। আমি স্থানীয় প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাই।

আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ আহম্মেদ জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনার জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবায় বিঘ্ন ঘটবে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে।

শেখ নূর মোহাম্মদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আটপাড়া থানার ওসি মো. জাফর ইকবাল স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে জানিয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এ.কে.এম. মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। মামলার প্রেক্ষিতে আসামিকে গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত