হাজীগঞ্জে মেয়রের চেয়ার ধরে রাখলেন আ. লীগের লিপন

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ১১:৩৪ পিএম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসম মাহবুব উল আলম লিপন।

তিনি ২৩ হাজার ৬শ ৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান খান বাচ্চু পেয়েছেন ১১হাজার ৫শ ৪৯ ভোট। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন লিপন।

যদিও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান খান বাচ্চু নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগ করেছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী লিপন। আর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেছেন, বিচ্ছিন্ন দু’একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এ জন্য তিনি ভোটারসহ সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৪৫ হাজার ৩শ' ৪৮জন। এর মধ্যে মোট ৩৬হাজার ৫৬জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রাপ্ত ভোটের ৮শ’ ৫০টি ভোট বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ৮৯.৫১ পার্সেন্ট ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে মোট ৬৭জন কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫২ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ছিল ১৫ জন। পৌরসভার ২০টি ভোটকেন্দ্রের ১২৮টি স্থায়ী এবং ১৯টি অস্থায়ী কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

তবে দু’একটি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুপুর ১২টার দিকে বলাখাল জেএন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এতে করে এই কেন্দ্রে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র আবদুল মান্নান খান বাচ্চু দুপুর একটায় তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও নির্বাচন কর্মকর্তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ  নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমি নির্বাচনে অংশ নেই। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রের বিএনপি’র এজেন্টকে বের করে দেয় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। তা ছাড়া ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রগুলো জোরপূর্বক দখল করে ব্যালট পেপারে নৌকা মার্কায় সিল মারা হয়েছে। এ ব্যাপারে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিকট মৌখিকভাবে অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পায়নি বলে জানান তিনি। বেলা ৩টায় তার আবারও সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বিজয়ী প্রার্থী আসম মাহবুব উল আলম লিপন। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোন প্রকার কারচুপি করা হয়নি। জনগণ তাদের রায় কোন প্রকার বাঁধা ছাড়াই দিতে পেরেছে। নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত ভালো ছিল। প্রতিটি কেন্দ্রে উৎসবের আমেজে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার তোফায়েল হোসেন বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পেরেছি। সারা দিন দু ‌একটি ছোট খাট ঘটনা ছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ভালো। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত