চা বিক্রেতা রাজ্জাক আবারো কাউন্সিলর নির্বাচিত

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:১১ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনে ছয় নম্বর ওয়ার্ডে সেই চা বিক্রেতা মো. রাজ্জাক মিয়া আবারো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি মির্জাপুর পৌর এলাকার বাইমহাটী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে। ২০১৫ সালেও তিনি ছয় নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

নাজিম উদ্দিনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে মো. রাজ্জাক মিয়া তৃতীয়। ১৯৯৬ সালে এসএসসি পাস করে মির্জাপুর কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু এইচএসসি পাস করতে পারেননি। তার বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে অনেক আগে। এক ভাই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ছোট ভাই, বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার।

রাজ্জাক ২০০৩ সালে রাশিদা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে।

এই জনপ্রতিনিধি দিনভর চায়ের দোকানে বসেই এলাকার মানুষের সমস্যার কথা শোনেন। কাউন্সিলর হিসেবে দাপ্তরিক কাজও করেন তার চায়ের দোকানে বসেই।

কর্মচারী ছাড়াই দোকান চালান। চা ছাড়াও বিক্রি করেন বিস্কুট, চানাচুরসহ অন্যান্য পণ্য। পাশাপাশি গ্রামবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এলাকাবাসীর পরিবারের সদস্যরা কেমন আছেন, খোঁজ নেন। তার সাক্ষর প্রয়োজন হলে দোকানে বসেই করে দিচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই সদালাপী মো. রাজ্জাক মিয়া কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরও আগের মতোই রয়েছেন। তার বাবা অসুস্থ। ভাইদের মধ্যে বড় বলে কাঁধে সংসারের দায়িত্ব। অসুস্থতার কারণে বাবা দোকানে বসতে পারেন না। এ কারণে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর দোকানে বসেন। মাঝখানে দুপুরের খাবার খেতে এক ঘণ্টার জন্য বাড়ি যান। ফিরে রাত আটটা পর্যন্ত দোকান করেন।

এবারের নির্বাচনে রাজ্জাকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনজন। নির্বাচনী প্রচারে এলাকার অধিকাংশ মানুষ রাজ্জাকের পাশে এসে তাকে সহায়তা করেন। ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনে রাজ্জাক ৫৮০ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

বাইমহাটী গ্রামের বাসিন্দা কবি জহিরুল ইসলাম শেলী বলেন কাউন্সিলর রাজ্জাকের কোনো অহঙ্কার নেই। সে কাউন্সলর হয়েও আগের মতো মানুষের সেবার পাশাপাশি চায়ের দোকানও চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে এবারও এলাকাবাসী তাদের প্রতিনিধি তাকে বেছে নিয়েছেন।

রাজ্জাক মিয়া বলেন, ‘আমার যতটুকু উপার্জন হয়, তাতেই জীবন কেটে যাবে। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের মতোই গ্রামবাসীকে খুব ভালোবাসি। আমি মানুষের ভালোবাসায় মর্যাদা নিয়েই আছি। পাশাপাশি চা বিক্রি করছি। যা আমার কাছে মানুষের ভালোবাসার মতোই মর্যাদাপূর্ণ। সেখান থেকে আমার রুজি চলে। এলাকার মানুষ আমাকে ভালবেসে আবার ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত