বাগেরহাট শহরের রেলরোডে একটি জুয়েলারি দোকানের তালা ভেঙে একশ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। চুরির হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ষাট লাখ টাকার অধিক বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক।
সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে সংঘবদ্ধ চোরের দল বাগেরহাট শহরের রেলরোডের ড্রিমল্যান্ড সুপার মার্কেটের রুপালি জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এই স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনায় জুয়েলারি মালিক সমিতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মো. শাফিন মাহমুদসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বাগেরহাট শহরের রেলরোডের ড্রিমল্যান্ড সুপার মার্কেটের রুপালি জুয়েলার্সের মালিক ভোলানাথ দাস বলেন, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত দশটার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। মঙ্গলবার সকালে মার্কেটের মালিক পক্ষ আমার দোকানে তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে আমাকে খবর দেয়। আমি দোকানে এসে দেখি আমার লোহার সিন্ধুক ভাঙা। সিন্ধুক ও সোকেজে কোন স্বর্ণালংকার নেই একেবারে ফাঁকা। এতে আমার একশ ভরির অধিক সোনার গয়না রাখা ছিল। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ষাট লাখ টাকার অধিক। চোরের দল আমার দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেই প্রথমে আমার দোকানে সিসি ক্যামেরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় যাতে ওদের আমরা চিনতে না পারি। তবে সিসি ক্যামেরায় আমরা একজনের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছি। যা পুলিশকে দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাগেরহাট জুয়েলারি মালিক সমিতির একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দিনেও এই ধরনের চুরি কমবেশি হয়েছে। তবে অন্য সময়ের চেয়ে বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে রুপালি জুয়েলার্সে। এটি একটি দু:সাহসিক চুরির ঘটনা। চোরেরা একশ ভরির অধিক স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে এই দোকান মালিকের।
তিনি বলেন, অধিকাংশ চুরির ঘটনার কোন কিনারা হয়নি। কিছুদিন আগে এই দোকানের অদূরে সাধনার মোড়ের আর এস টেলিকম নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চোরেররা ঢুকে প্রায় আট লাখ টাকার মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। সেই চোরেদের সিসি ক্যামেরায় থাকা ফুটেজ পুলিশকে দেয়া হয়েছে। রুপালি জুয়েলার্সের চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে পুলিশ জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে দাবি জুয়েলারি মালিক সমিতির।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মো. শাফিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শহরের রেলরোডের জুয়েলারি দোকানের শাটার ভেঙে একদল চোর স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। চুরির ঘটনার পর আমরা সেখানে পরিদর্শন করেছি। তার দোকানের সিন্ধুকে ও শোকেসে একশ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। ওই জুয়েলারি দোকানে কি পরিমাণ স্বর্ণালংকার ছিল তার তালিকা আমরা চেয়েছি। আমরা দোকানের সিসি ক্যামেরার সব ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এই ঘটনায় মামলা নেওয়া হবে। চোর চক্রটিকে ধরতে আমাদের তদন্ত শুরু করেছি।
