জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বসবাস

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:২৯ এএম

২৪ জানুয়ারি, বেলা ৩টা, মেঘ-বৃষ্টির বালাই নেই, কিন্তু ওপর থেকে পানির ফোঁটা পড়ছে টপ টপ শব্দে। ছোট্ট একটি কক্ষের মেঝেতে তিনটি বিছানা, বই-খাতায় ঠাসা ছোট আকৃতির দুটি পড়ার টেবিল, দুটি প্লাস্টিকের চেয়ারে থালা-বাটি-গ্লাস রাখা। ওই কক্ষের মাঝখান বরাবর রাখা প্লাস্টিকের বালতিতে ওপর থেকে পড়ছে পানি।

কক্ষটির মাঝখান বরাবর একটি দড়ি টানানো, এতে এলোমেলো ঝুলছে অগোছালো কাপড়-চোপড়। আর মাথার ওপর (সিলিং) ফ্যানের বদলে ঝোলানো কালো রঙের পলিথিনে জমা পানি ঝরছে অবিরাম। ছাদে থাকা পানির ট্যাংক থেকে চুইয়ে পড়ছে এ পানি।

অন্য একটি কক্ষের সিলিং শেওলায় আচ্ছাদিত। অন্য একটি কক্ষের সিলিংয়ের অধিকাংশ খসে পড়েছে অনেক আগেই, মরিচায় অধিকাংশ ক্ষয়ে যাওয়া কয়েকটি রড দেখা যায়। ভেতরের এমন জীর্ণদশা ভবনটির বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। কক্ষগুলোর মধ্যে কেউ বসে পড়ছে, কেউবা দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমের চেষ্টায়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ঠিক পেছনে বছর বিশেক আগে চিকিৎসকদের আবাসন হিসেবে নির্মিত হয়েছিল দ্বিতল এই ভবনটি। বসবাস অযোগ্য ও পরিত্যক্ত হওয়ায় অনেক আগেই সেটি ত্যাগ করেন চিকিৎসকরা। সেখানেই অগত্যা আবাসনের ঠাঁই হয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বা শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের।

সেখানে পঞ্চম বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আর মাত্র কয়েকটা দিন। পরীক্ষা দেব, বেরিয়ে যাব। ব্যস, এতদিন যখন মরিনি, যত ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাতেই থাকি না কেন, আল্লাহ সহায় থাকলে এ কটা দিনও কেটে যাবে।

নাটোরের মেয়ে অনিতা বিশ্বাস (ছদ্মনাম) আক্ষেপ করে বলেন, ‘বুকভরা রঙিন স্বপ্ন নিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম একটা সুন্দর ক্যাম্পাস পাব। কিন্তু প্রথম দিনেই ক্যাম্পাসে এসে রহিমা-আফসার ছাত্রী হোস্টেলে ঢোকার পর আমার সব স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। এখানে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমসহ আবাসনস্থলে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে আমরা পাঁচটি বছর শেষ করলাম। অস্বাস্থ্যকর ঝুঁকিপূর্ণ আবাসনে নেই পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা, ছাদের পলেস্তারা খসে আহত হচ্ছেন সহপাঠী, দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী।’

জানা যায়, ২০১১ সালে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের যাত্রা শুরু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের। সর্বশেষ নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখন চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওইসব ভবন অনেক আগেই বসবাস ও ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা কীভাবে থাকে সেটা কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।’

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সরোয়ার জাহান বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরুকালে তাৎক্ষণিকভাবে নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীদের এসব জরাজীর্ণ ভবনে রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এটা সাময়িক সমস্যা। কিন্তু প্রকল্পের নির্মাণকাল নিয়ে এমন দীর্ঘসূত্রতার কারণে আজ ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেছে। দ্রুত এ অবস্থার স্থায়ী নিরসন দাবি করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত