নারায়ণগঞ্জের তল্লার সেই মসজিদে নামাজ হয় না ৫ মাস

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:৩৫ পিএম

গত ৫ মাস ধরে নামাজ হয় না নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার সেই জামে মসজিদে। জুমা হয় না ২১ সপ্তাহ ধরে।

২১তম জুমার আগে মসজিদটি খুলে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী। জেলা প্রশাসক বলেছেন, সতর্কতার জন্যই মসজিদটি এখনই খুলে দেয়া যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তল্লা মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি মনির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এশার নামাজ চলাকালে মসজিদটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছিল ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ৩৪ মুসল্লির এবং আহত হয়ে সুস্থাবস্থায় বাড়িতে ফিরেছেন ৩ জন। এরপর থেকে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসে মসজিদটিতে হয়নি কোনো জামাত, হয়নি ২১টি জুম্মাও।

কবে চালু হবে মসজিদটির কার্যক্রম? কবে আবার সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায় করতে এলাকাবাসী একত্রিত হবে মসজিদে? ইতিমধ্যেই সেই মসজিদটি চালু করার জন্য মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও (ফেসবুক) অনেকে মসজিদটি খুলে দেয়ার জোর দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামীম বেপারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নবাগত জেলা প্রশাসকের নিকট মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী এসে আবেদন দিয়েছেন খুলে দেয়ার জন্য। তাদের কথা শুনে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেছেন যে, আমরা মসজিদ খুলে দেয়ার পক্ষে। কিন্তু, তার আগে আমরা সেইফটির জন্য কিছু সময় নিতে চাচ্ছি। ৩৪ জন মারা গেছেন এবং ৩ জনের খুব বেশি ভালো অবস্থা ছিল না। এ জন্য যে কমিটি হয়েছিল প্রশাসনের তাদের মন্তব্য নেব, তিতাসের সাথেও এ ক্ষেত্রে কথা বলবো। তাদের সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা জেলা প্রশাসন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেয়ার পক্ষে’।

জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মুহা. জাকির হোসাইন বলেন, ‘মসজিদটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কিছু করার নেই। আমাদের কাছে খুলে দেয়ার জন্য কোন আবেদন আসলে আমরা প্রশাসনকে জানাতে পারবো। সকলেই চায় মসজিদটি যাতে নামাজের জন্য খুলে দেয়া হয়। আইনি যদি কোন জটিলতা না থাকে, আলামত সংরক্ষণের বিষয় যদি না থাকে তাহলে প্রশাসন চাইলে খুলে দিতে পারে’।

এদিকে প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ।

চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে মসজিদটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে। তবে চার্জশিট থেকে সাময়িক বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাস বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত