বর্তমান সরকার রেলওয়ের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হতে পটিয়া দোহাজারি রেললাইনে স্বাধীনতার পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে লোকাল ট্রেন চলাচল করলেও এবার কোনো সরকারের প্রথম আধুনিক ও যুগোপযোগী ট্রেনের সংযোজন হয়েছে।
অবশেষে পটিয়া-দোহাজারি রেলপথের নব দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে আজ। পটিয়া-দোহাজারি রেললাইনে চালু করা হল দ্রুতগতির অত্যাধুনিক ডেমো (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) ট্রেন।
শনিবার দুপুরে পটিয়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এ ট্রেনের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জি এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মোসলেম উদ্দিন এমপি, চন্দনাইশের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম এমপি, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে আনা নতুন এ ডেমো ট্রেনটি চট্টগ্রাম-পটিয়া-দোহাজারিসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের চলাচলের পথ সুগম করবে। আপাতত একটা ডেমো ট্রেন সংযোজন করেছি এ রুটে। আমি আগামী মাসে আবার আসব দক্ষিণ চট্টগ্রামে নতুন রেলস্টেশন উদ্বোধন করতে তখন হিসাব কষে আরও একটি ট্রেন দেব এ অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নে ৩৮টি প্রকল্পে ১৮ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
‘এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হবে। যা অতীতের কোনো সরকার গ্রহণ করেনি। বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতা বিরোধীরা হরতালের নামে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি পুড়িয়েছে। রেলের সম্পদ ধ্বংস করেছে।’
এ সময় তিনি রেলের সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী সুজন বলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কোনো গরিব থাকবে না। তিনি অসহায় গৃহহীনদের জন্য ঘর করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাই উন্নয়নের এ সরকারের সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ জানান।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে ভোর সাড়ে ৫টায় পটিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। পটিয়া পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় পটিয়া ছেড়ে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে। দ্বিতীয় ট্রিপে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে ট্রেনটি। দোহাজারী পৌঁছাবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এবং দোহাজারী থেকে ছেড়ে আসবে ৭টা ৪০ মিনিটে। চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে।
তিনি আরও জানান, ডেমো ট্রেনটি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে সামনে-পেছনে ৪টি ইঞ্জিন ও ৩টি বগি থাকবে। যেখানে ১৮০ জন যাত্রী বসে এবং আরোন১৮০ যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন অনায়াসে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম পটিয়া-দোহাজারী রেললাইনে দুই জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে।
এ ছাড়া এই লাইনে দোহাজারীগামী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস অয়েলবাহী একটি ওয়াগন ট্রেন চলাচল করে।
