‘নৌকার মেয়র হয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি খাবেন, তা হবে না’: আইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৪১ পিএম

নারায়ণগঞ্জে মেয়র আইভীর পরিবার কর্তৃক দখলকৃত দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে মেয়র আইভীর বাড়ির মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা নিতে দেখা গেছে তার বাড়ির সামনে। সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়া একাত্মতা প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দিপক কুমার সাহার সভাপতিত্বে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক।

প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী, বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন শীল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. মহসিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর যুবলীগের সভাপতি সাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।

সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। 

গণ সমাবেশে প্রধান অতিথি নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, নারায়ণগঞ্জ নগরী স্থাপনের সময়কালে শ্রী ভিকন লাল ঠাকুর শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকায় দেবতা লক্ষ্মীনারায়ণের নামে ‘শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটির পাশে পূজা-অর্চনা ও আশপাশের অধিবাসীদের সুবিধায় ৩৬৭ শতাংশ জমির ওপর একটি পুকুর খনন করান, যা স্থানীয়দের কাছে জিউস পুকুর নামে পরিচিত। কিন্তু আমাদের এই মন্দিরের সম্পত্তি এখন আইভী ও তার পরিবারের সম্পত্তি বলে রীতিমতো ‘খেয়ে’ ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্দির বা যেকোনো ধর্মীয় সম্পত্তি দখল করা দুর্বৃত্তদের কাজ। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা আমাদের ধর্মের এ আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে চিতা দাহ হতে প্রস্তুত আছি। নৌকার মেয়র হয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি খাবেন, ভূমিদস্যূতা করবেন তা হবে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কোন অপরাধীদের ছাড় দেন না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, মন্দিরের সম্পত্তি দখলের বিষয়ে আইভী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলায় মেয়র আইভী আমার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করেছেন। কয়েক দিন আগে হকার ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি আসলে দলীয় লেবাসে মসজিদ-মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে দলের ক্ষতি করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। খোকন সাহা এ সময় মন্দিরের সম্পত্তির পক্ষে বেশ কয়েকটি দলিল দেখিয়ে বলেন, ভূমি জরিপের সিএস (ব্রিটিশ) পর্চায় এই বিশাল সম্পত্তি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। যা আইনে বিক্রি করার নিয়ম নেই। কিন্তু জিয়াউর রহমানের আমল থেকে দেবোত্তর এই সম্পত্তি দখল করতে উঠেপড়ে লাগে মেয়র আইভীর পরিবার। যে নকল দলিল করে এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে তাতে মেয়র আইভীর মা, দুই ভাই এবং আত্মীয়-স্বজনের নাম রয়েছে।’

এ সময় খোকন সাহা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি একজন হিন্দুর ছেলে বলে এখানে আসি নাই। এসেছি নারায়ণগঞ্জের একজন সন্তান হয়ে। ২৫ বছর ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। মেয়র আইভীর কখনো মসজিদ, কখনো মন্দির, আবার কখনো বঙ্গবন্ধু হাতে উদ্বোধনকৃত স্কুল ভেঙে দেন। ভোটের সময় সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে  ভোট প্রার্থনা করেন। আর ভোট চলে গেলে এখন  মন্দিরের সম্পত্তিতে সিঁধ কাটতে এসেছেন। প্রয়োজনে চিতায় জ্বলতে প্রস্তুত আছি কিন্তু কোন ধর্মীয় সম্পত্তি দখল করতে দেব না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ব।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন,  কাল (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখলাম শহরের ডিআইটি মসজিদের ইমাম ও হেফাজতের নেতা বলেছেন মেয়র আইভী একাধিক মসজিদ ও মাদ্রাসার জায়গাও দখলে নিতে চাচ্ছেন। মন্ডলপাড়া এলাকায় প্রায় ৭ শ বছরের পুরোনো মসজিদের জায়গাও নাকি দখলে নিতে চাচ্ছেন। নিজের পছন্দমতো মাসদাইর কবরস্থান মসজিদে ইমাম নিয়োগ দিয়েছেন। আপনি আওয়ামী লীগ করে দলকে আর বিতর্কিত করবেন না। দলের নেতা কর্মীদের ধৈর্যের সীমা আছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু সমাবেশে বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি আমার এলাকায় বঙ্গবন্ধুর নামে বঙ্গবন্ধুর হাতে উদ্বোধনকৃত প্রাইমারি স্কুলটি ভাঙচুরের জন্য ভেকু পাঠান সিটি মেয়র আইভী। পরে একটি কক্ষ ভেঙেও ফেলে। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও এলাকাবাসী গিয়ে ওই স্কুলটি রক্ষা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত