পরিবারকে করোনামুক্ত রাখতে কর্মস্থলেই বছর কাটালেন তিনি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৪২ পিএম

করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ইউরোপের কেয়ার হোমগুলো। সেখানকার বাসিন্দারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছিলেন, মৃত্যুর হারও ছিল অধিক।

ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমে চিশায়ার কাউন্টির একটি কেয়ার হোমও করোনা ঝুঁকিতে পড়ে। সেখানকার একজন কর্মী ২৪ বছর বয়সী ডিলান রিক্সন।

ফ্লিন্সশায়ার উত্তর-পূর্ব ওয়েলস কাউন্টির এ বাসিন্দা করোনাকালের শুরু থেকে প্রায় এক বছর কাটিয়ে দিয়েছেন কর্মস্থলেই। এর ফলে নিজেকে, পরিবার ও প্রতিবেশীদের তিনি করোনামুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

গণপরিবহনে ৩০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন কর্মস্থলে আসা যাওয়া করতেন তিনি। এতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মুখে ছিলেন তিনি, সেইসঙ্গে তার সংস্পর্শে আসা কেয়ার হোমের বাসিন্দাদের থেকে শুরু করে পরিবার ও প্রতিবেশীরাও।

ডেফনেস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক নামে একটি সংস্থার বধির লোকদের নিয়ে চারটি কেয়ার হোমের একটিতে কাজ করেন ডিলান। করোনার শুরুতে মার্চে আরোপ হওয়া প্রথম লকডাউনের সময় মাত্র তিন সপ্তাহের জন্য নিজের বাড়িতে ছিলেন তিনি।

এরপর থেকে চিশায়ারে নর্থভিচের স্টেপিং স্টোনস কেয়ার হোমেই তার অবস্থান। সেটিই এখন তার ঘরবাড়ি। কেয়ার হোমটিতে ২২ জন বধির থাকেন।

মূলত বাবার পরামর্শেই পুরো বছর ধরে কর্মস্থলে তার বন্দীযাপন। ডিলানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল ছিল, এ ছাড়া দুই বছর আগে একবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল তার। ফলে বাবাই তাকে পরামর্শ দেন কেয়ার হোমে অবস্থান করতে। বাবার পরামর্শ সঠিক ছিল বলে ডিলানের মন্তব্য।

স্টেপিং স্টোনেই এ তরুণ তার জন্মদিন কাটিয়েছেন। বড়দিন, নতুন বছরের উৎসব সবকিছুই শেয়ার করে নিয়েছেন কেয়ার হোমের বাসিন্দাদের সঙ্গে।

কেয়ার হোম থেকে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া বের হন না ডিলান। ফলে পুরোটা সময় কর্মস্থলেই থাকেন। একটা রুমে ঘুমান তিনি। সেখানে সিনেমা দেখে, গেম খেলে অবসর সময় কাটান। এ ছাড়া কেয়ার হোমের রান্নাঘর পরিষ্কার ও লন্ড্রির কাজেও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।

আপাতত কেয়ার হোম ছাড়ার পরিকল্পনা নেই তার। তবে তিনি আশা করেন, একদিন বাড়ি ফিরে যাবেন এবং প্রিয় সব মানুষের সঙ্গে আবার মিলিত হবেন।

ডিলান বলেন, ‘আমি আমার পরিবার, বন্ধুদের মিস করি। আমার ঘরকে মিস করি। এখান থেকেই আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমি নিশ্চিত আমি যেভাবে তাদের মিস করছি, তারাও আমাকে একইভাবে মিস করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত