বোয়ালমারীতে যুবলীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:২৯ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে । দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ২০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায় অপর পক্ষ।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারি পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) আনিসুজ্জামান ও বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাহিদ শেখ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, রবিবার  সন্ধ্যায় উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বাবুরবাজারে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে চতুল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক শরীফ মো. সেলিমুজ্জামান লিটুর পক্ষে নির্বাচনী সভা হওয়ার কথা ছিল। এ সময় একই ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে পোয়াইল গ্রামের হাসমত শেখ তার অনুগতদের নিয়ে ওই সভা বানচাল করার চেষ্টা করেন।

এ সময় সেলিমুজ্জামান লিটুর সমর্থক পোয়াইল গ্রামের জামাল মাতুব্বরের নেতৃত্বে হাসমত সমর্থকদের প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন বাবুরবাজারে তিনটি দোকান ভাঙচুর করে সংঘাতকারিরা।

এতে উভয় গ্রুপের ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে হাসমত শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পোয়াইল গ্রামের রবিউল মোল্যা, আবজাল মোল্যা, উজ্বল শেখ, জামাল মাতুব্বরকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে সোমবার সকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাসমত শেখের সমর্থক সানোয়ার শেখ, জাশু ফকির, এসকেন শেখের নেতৃত্বে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পোয়াইল গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ প্রায় ২০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা এ সময় মিন্টু মোল্যা নামে একজনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিরাজুল ইসলামের ভাতিজি লাইজু বেগম (২৬) বলেন, সকালে অতর্কিত ভাবে হাসমত মাতুব্বরের সমর্থক সানোয়ার শেখ, জাশু ফকির, এসকেন শেখ, রমজানের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আমার চাচার বাড়িঘরসহ প্রায় ২০টি বাড়িতে ভাংচুর ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরীফ মো. সেলিমুজ্জামান লিটু বলেন, আমার একটি নির্বাচনী সভা এবং সভা শেষে গণসংযোগ হওয়ার কথা ছিল। অথচ আমার প্রতিপক্ষের লোকেরা সহিংস উপায় অবলম্বন করে আমার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী বানচাল করেছে। আমার লোকেরা বাধা দিলে তাদের বেধড়ক মারপিট করেছে এবং ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমি বোয়ালমারীতে ছিলাম, এ ব্যাপারে কিছু জানি না।

বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।  এ ঘটনায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত