করোনার কারণে ২০২০’র প্রায় ১০ মাস ক্রিকেট খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২১ সালটি ব্যস্ততাতেই পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। সবচেয়ে বড় খবর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে খেলতে রাজি হয়েছে। তবে টেস্ট নয়, বছরের শেষদিকে টি-টোয়েন্টি খেলতে আসবে অজিরা। অক্টোবরের শুরুর দিকে এই সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, অক্টোবরের আগেই নিউজিল্যান্ডেরও টি-টোয়েন্টি খেলতে আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। আবার ইংল্যান্ডের সঙ্গে ওই অক্টোবরেই তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির আইসিসি নির্ধারিত সূচি রয়েছে। এখন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে বিসিবি এখনই সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ। তবে যাই হোক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দারুণভাবে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার ভালো একটা সুযোগ পাচ্ছে মাহমুদউল্লাহর দল।
গত বছর জুনে টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। ২০১৭ সালের পর সেটাই অজিদের প্রথম সফর হতো। কিন্তু করোনার কারণে দুই টেস্টের সিরিজ বাতিল হয়। আবার আগস্ট-সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। সেই সিরিজও স্থগিত হয় করোনার কারণে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। অক্টোবরেই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় ভারতীয় কন্ডিশনের সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুবিধা থাকছে। মূলত এ কারণেই বাংলাদেশে আসতে রাজি হয়েছে দুই দল। আবার স্থগিত হওয়া দুই সিরিজের ক্ষতিপূরণের একটা ব্যাপারও আছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর থেকেই বাংলাদেশ দলকে মাঠের ব্যস্ততায় কাটাতে হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর আশা, ‘আমরা অনেকগুলো অপশন পেয়েছি। আপনারা জানেন ইংল্যান্ডের সিরিজটা আমাদের এফটিপিতেই আছে। এ ছাড়া কয়েকটি দেশের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়াও আছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি। এটা একরকম নিশ্চিত। আর এভাবেই আমাদের শিডিউল করা হচ্ছে। সূচি চূড়ান্ত করতে আমরা কাজ করছি। এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নিশ্চিত যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড বাংলাদেশ সফর করবে। এভাবেই আমাদের প্ল্যান আছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এফটিপি সূচি যেভাবে আছে সেভাবে কাজ করছি। এর বাইরে কিছু বলা ঠিক হবে না। অন্যান্য বোর্ডের ইচ্ছার ব্যাপার আছে। সবার সঙ্গে কথা বলে যখন তারিখ ও সূচি চূড়ান্ত করতে পারব তখন এ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’
টেস্টের বদলে টি-টোয়েন্টি নয়
অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি খেলতে এলেও তা যে টেস্টের পরিবর্তে এমনটা মনে করার কারণ দেখছেন না নিজাম উদ্দিন। সময়ের অভাবের কারণেই টি-টোয়েন্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি। দুই টি-টোয়েন্টির সূচিতে আরও একটি ম্যাচ যোগ করা হয়েছে। সময় বেশি থাকলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টই খেলা হতো। সামনে বিশ্বকাপ ছোট ফরম্যাটের বলে টি-টোয়েন্টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমাদের তিন টেস্ট দুই টি-টোয়েন্টি ছিল। এখন যেহেতু টি-টোয়েন্টিটা এখানে ফিট করা যাচ্ছে আমরা সেটা করছি। দুইটা টি-টোয়েন্টি বাড়িয়ে তিনটা করা হচ্ছে। এর মানে এই নয় যে এটার বদলে ওটা। আমরা টি-টোয়েন্টি ফিট করেছি কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটা আমদের জন্য ভালো প্রস্তুতি। এটা বড় সুযোগ যে বিশ্বকাপের আগেই এমন হাই প্রোফাইল একটা দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’
স্থগিত টেস্ট হওয়ার সুযোগ নেই
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট স্থগিত হয়েছে। এই টেস্টগুলোর আর মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই। যেহেতু ম্যাচগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ আর এই চক্রের ফাইনাল এ বছর জুনেই, তাই ম্যাচগুলো পুনরায় মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই। আবার আগের মতো এক-দুই বছর পর যে দুই বোর্ডের সম্মতির ভিত্তিতে টেস্ট খেলবে সেই সুযোগও নেই। কারণ জুনের পর থেকেই তো নতুন চক্র শুরু হবে। তাই ওই টেস্টগুলো একপ্রকার হারিয়েই গেল। এ ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গেও একটি টেস্ট স্থগিত হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি টেস্ট স্থগিত হয়ে আছে বাংলাদেশের। বিষয়গুলো সামনে এনে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘টেস্ট এবং ওয়ানডেগুলো এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ। আগের মতো স্থগিত হলে তিন বছর পরে ফাঁকা সময়েও ফিট করে দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফাইনাল হয়ে গেলে ওই প্রতিযোগিতার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। আবার বর্তমান এফটিপির কমিটমেন্ট মতো বাড়তি ম্যাচেরও সুযোগ নেই। তাই ওই টেস্টগুলো হচ্ছে না।’
এপ্রিলেই হতে পারে শ্রীলঙ্কা সিরিজ
স্থগিত হওয়া সিরিজগুলোর মধ্যে একমাত্র শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়েই আলো দেখছে বিসিবি। কারণ প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ওই সময়ে ফ্রি আছে। এ কারণেই এপ্রিলে তিন বা দুই টেস্টের স্থগিত সিরিজটি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর আগে দুই দফা স্থগিত হয় শ্রীলঙ্কা সিরিজ। সিরিজটি নিয়ে সম্ভাব্য সুখবর জানালেন নিজাম উদ্দিন, ‘স্থগিত খেলাগুলো সম্পন্ন করতে সব দেশের ক্ষেত্রে কিন্তু দুই দলকেই এভেইলএবল থাকতে হচ্ছে। আমাদের ক্ষেত্রে এই সময়ে কেবল শ্রীলঙ্কা ফ্রি আছে। তাই এটা নিয়েই আমরা কাজ করছি। এই সময়ের মধ্যে অন্য স্থগিত টেস্টগুলো আয়োজনের সুযোগ নেই। এপ্রিলে একটা সময় আছে যেখানে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দু’দলই ফ্রি থাকছে। সুতরাং এই সময়েই আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যে দুইটা বা তিনটা টেস্ট ম্যাচ ছিল সেটাকে ফিট করার চেষ্টা করছি।’
