ওয়ারীতে যুবকের ৫ টুকরা লাশ: শাহনাজকে একমাত্র আসামি করে মামলা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৪১ পিএম

রাজধানীর ওয়ারীতে যুবকের পাঁচ টুকরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহত সজীবের কথিত প্রেমিকা শাহনাজ পারভীনকে (৫০)। সজীব হাসানের (৩৫) খালু নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়ারী থানায় মামলাটি করেন।

প্রাথমিকভাবে ওই নারী একাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা ও বঁটি দিয়ে লাশ ৫ টুকরো করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মূলত পলিথিনের ব্যাগে করে ডাস্টবিনে ফেলার উদ্দেশ্যে শাহনাজ লাশ টুকরো টুকরো করে বলে জানিয়েছে। 

পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. হান্নানুল ইসলাম মামলার বিষয়ে বলেন, থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মামলার তদন্ত করবেন। মামলায় ওই নারীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই নারী একাই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অবৈধ সম্পর্কের কথাও জানিয়েছেন। কথা বলেছেন কীভাবে হত্যা করেছেন সেটি নিয়েও। তার পরিকল্পনা ছিল টুকরো টুকরো করে লাশ ফেলে দেবেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর ঘাবড়ে যাওয়ায় তিনি লাশ গোপন করতে পারেননি।

সাইফুল আরও বলেন, আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। হত্যার আলমত জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ারীর ১৭/১, কে এম দাস লেন হোল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মনোমালিন্য ও কথা কাটাকাটির জেরে নিহত সজীবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন শাহানাজ পারভিন। এরপর তার হাত, পা ও মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করেন।

পুলিশ জানায়, সজীব হাসানের সঙ্গে শাহনাজ পারভিনের পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দুদিন আগে হত্যাকারী শাহনাজ পারভীন স্বামীর বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি জিনিসপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে একই এলাকায় সজীবের বাসায় ওঠে। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই বাসা আগেই ভাড়া নিয়েছিলেন তারা। যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই যাতায়াত ছিল শাহনাজের। সজীব বুটিকসের কাজ করতেন। বুটিকসের কাজ শেখার বাহানা করেই সজীবের বাসায় যেত শাহনাজ। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং একমাত্র মেয়ে কলেজে পড়েন। মেয়েকে নিয়ে কলেজে আসা যাওয়ার পথে শাহনাজের সঙ্গে সজীবের সম্পর্ক হয়। শাহনাজ জিনিসপত্র নিয়ে সজীবের বাসায় যাওয়ার পর তার স্বামী থানায় ডিজি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ শাহনাজকে আটক ও সজীবের ৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত