পল্টনে গৃহকর্মীর গলা কাটল কে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪১ পিএম

রাজধানীর নয়া পল্টনের একটি বাসায় কুলসুম আক্তার (১৬) নামে এক গৃহকর্মী ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর রায়পুর উপজেলায়।

জানা গেছে, নয়া পল্টন ৭২ নম্বর ফারুক টাওয়ারে ১৫তলায় গৃহকর্তা আমিনুল হক দিদার ও গৃহকর্ত্রী ফেরদৌসি আক্তারের বাসায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী ফেরদৌসি আক্তার জানান, রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে গৃহকর্তা আমিনুল ফেনী যাওয়ার সময় কুলসুম তাকে নাশতা বানিয়ে দেয়। এরপর আবার যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরদৌসির বড় ছেলের স্ত্রী আকলিমা আক্তার প্রিয়া রান্না ঘরে গিয়ে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ে আছে কুলসুম। পরে সবাইকে ডাকলে তারা কুলসুমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

গৃহকর্তার ছোট ছেলে তাকিম জানান, কুলসুমের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত। রক্তে তার সারা শরীর ভিজে গেছে। তখন বাসার মেইন দরজা খোলা ছিল। কীভাবে কী হয়েছে তা বলতে পারছি না। আমরা সবাই তখন ঘুমে ছিলাম। যখন তাকে রান্না ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এর আগে আমার আম্মু তার পরনের জামা কাঁচি দিয়ে কেটে শরীরের আরো কোথাও আঘাত আছে কি না তা দেখার চেষ্টা করে।

ঢামেক হাসপাতালের নাক, কান গলার চিকিৎসক জানান, কুলসুমের শ্বাসনালি গভীর ভাবে কেটে গেছে। আমরা এটি সেলাই করার চেষ্টা করছি। শ্বাস নেওয়ার জন্য গলায় একটি নল করে দিচ্ছি। তার অবস্থা খুবই গুরুতর।

পল্টন থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হিরন্ময় বারুরী জানান, রক্তাক্ত আহত অবস্থায় ওই বাসার লোকজনই তাকে হাসপাতাল নিয়ে এসেছে। কারা কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা কিছু জানা যায়নি। আমার ওই বাসার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরো জানান, আমরা মেয়েটার সঙ্গে ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করেছি, ঘটনাটি বাইরের কোনো ব্যক্তি এসে করেছে বলে তার মাধ্যমে কিছুটা জানতে পেরেছি। বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত