আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শহীদ মিনারে আগে-পরে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যুবলীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার সকালে উপজেলার তারাব পৌরসভার সুলতানা কামাল সেতু সংলগ্ন শহীদ মিনারে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শুক্রবার সকালে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর বাসভবনে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির লোকজনের সঙ্গে পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর প্যানেল মেয়র পনির হোসেনের লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল ৯টার দিকে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) ও তার স্ত্রী তারাব পৌরসভার মেয়র মিসেস হাসিনা গাজীসহ নেতাকর্মীরা সুলতানা কামাল সেতু সংলগ্ন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান। এ সময় তারাব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন ফরাজিসহ তার লোকজন পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করেন। এ ছাড়া তারাব পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ তার লোকজনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।
আগে-পরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা নিয়ে উভয় পক্ষে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই একে অপরকে কিলঘুষি মেরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে নাঈম, তানহা, অপু, রোবেলসহ অন্তত ১১ জনের মতো জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে মন্ত্রী ও উপস্থিত পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। দু’পক্ষই ঘটনার সত্যতা শিকার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জানুয়ারি তারাব পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২ জানুয়ারি রাতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রুহুল আমিন ফরাজির সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়। ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে রুহুল আমিন ফরাজি বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে রুহুল আমিন ফরাজি বলেন, আমরা শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে আনোয়ার হোসেনসহ তার লোকজন বাধা দিলে ঘটনা ঘটে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, রুহুল ফরাজিসহ তার লোকজনই বাধার সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটায়।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রূপগঞ্জে যুবলীগ শক্তিশালী। শহীদ মিনারের সামনে যুবলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। ফুল দেওয়া নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে কিন্তু কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেনি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, যুবলীগের দু’পক্ষে হাতাহাতির ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
