নোয়াখালীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মৃত্যু হয়েছে শর্টগানের গুলিতে। তার মুজাক্কিরের মুখ, গলা, বুকে অসংখ্য ছিদ্র ছিল বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন।
ফুসফুসে গুলি লাগায় মুজাক্কিরকে বাঁচানো সম্ভভ হয়নি বলে জানান ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস।
তিনি বলেন, নিহত সাংবাদিক মুজাক্কিরের মুখ, গলা, বুকে অসংখ্য ছিদ্র পাওয়া গেছে। এগুলো শর্টগানের গুলিজনিত ইনজুরি। শর্টগানের গুলিতে তার ফুসফুস ও রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে তিনি মারা যান।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শুক্রবার রাতে তাকে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিনি মারা যান। রবিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ নোয়াখালী জেলারি নিজ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। নিহত সাংবাদিকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানা পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে বাদলের নেতৃত্বে চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি চাপরাশিরহাট মধ্যবাজারে গেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জার সমর্থকরা মিছিলে হামলা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া ও ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিছুক্ষণ পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে একদল সমর্থক চাপরাশিরহাট এলাকায় যান এবং বাজারসংলগ্ন মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় সাংবাদিক মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে শনিবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি।
