যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, দক্ষ গাড়িচালক তৈরির লক্ষ্যে ৪০ হাজার যুবককে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সারাদেশের উপজেলায় পর্যায়ে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, যুবকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে ১০০ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, জেলায় জেলায় যুব উদ্যোক্তা মেলা, শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলিন্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ যুবকদের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসুচি হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সোমবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব বলেন।
ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের নেতৃত্বে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ক্র্যাবের সহসভাতি নিত্য গোপাল তুত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুদ্র রাসেল ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম মিন্টু।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুজিব বর্ষকে সামনে রেখে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ স্পোর্টসের গণজোয়ার সৃষ্টির লক্ষ্য ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। ফুটবল নিয়ে আমাদের যে অবস্থায় যাওয়ার সুযোগ ছিল সেটা হয়তো যেতে পারিনি। কিন্তু ক্রিকেটে আমরা আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আসলে করোনা সংক্রমণজনিত কারণে আমাদের সব খেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা না থাকলে সারা বছর খেলোয়াড়রা খেলত, প্র্যাকটিস করত। কিন্তু গত এক বছর ঘরের মধ্যেই বন্দী থাকতে হয়েছে। খেলোয়াড়ররা অনেক দিন প্র্যাকটিস করতে না পেরে ফিটনেসে হয়তো কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা হয়তো বেশি দিন থাকবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবকদের জন্য আমরা অনেকগুলো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমাদের যুবপ্রশিক্ষণ আগে জেলা পর্যায়ে ছিল, এখন আমরা উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এতদিন সব ট্রেনিং সামনাসামনি ছিল এখন সামনাসামনির পাশাপাশি অনলাইনে বা ভার্চুয়াল ট্রেনিং করার উদ্যোগ নিয়েছি। ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ৪০ হাজার দক্ষ চালক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ দেব। নতুনভাবে এসব চালক তৈরি করা হবে। এটা সম্পূর্ণ নতুন সেটআপ। বিষয়ট সড়ক ও সেতু বিভাগের কাজ। তাদের সঙ্গে আমরাও এই কাজে যোগ দিয়েছি।
জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, আমরা দেশজুড়ে কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি প্রক্রিয়াজাত করার লক্ষ্যে ১০০ প্রসেসিং প্লান্ট করার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে কৃষকরা নায্যমূল পাবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় আগে এই কাজটি করত, এখন আমরা এই কর্মসুচি হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি আমরা যুবকদের জন্য যুব ব্র্যান্ড করেছি। আমরা যুবক কিচেন ও যুব শপ করছি। ঢাকায় ১০০টি ও ঢাকার বাইরে ১০০টি যুবশপ করব। এতে যুবরা তাদের উৎপাদিত পণ্য এসব শপে নিজস্ব ব্রান্ডের নামে বিক্রি করতে পারবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী মার্চ মাসেই শরিয়তপুরে আমরা যুব উদ্যোক্তা মেলা করছি। পর্যায়ক্রমে দেশের সবগেুলো জেলায় আমরা এই যুব উদোক্তা মেলা করবো। এতে যুব উদ্রোক্তারা তাদের পণ্যগুলো তুলে ধরতে পারবে।
তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড চালু করেছি। করোনার সময় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তাদের সম্মানিত করতে শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলিন্টিয়ার এ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। এখানে ক্রাইম রিপোর্টারসহ সাংবাদিকদেরও এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
